সারাবিশ্ব
ইসরাইলের গুলিতে নিহত ফিলিস্তিনি যুব ফুটবলার
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ফিলিস্তিনের জাতীয় যুব ফুটবল দলের সদস্য ফাদি হামদাল্লাহ আল-নাসান (১৭) মারা গেছেন। তার পরিবার, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। খবর আল জাজিরার।
ফাদি আল-নাসান গত ১১ জুলাই পশ্চিম তীরের আল-মুঘাইয়ির গ্রামে গুলিবিদ্ধ হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১৮ জুলাই) তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুর পর পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর ইসরাইলের দখলে রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এসব বসতি অবৈধ বলে বিবেচিত হলেও সেখানে বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘ পশ্চিম তীরে ইসরাইলের নীতিকে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা বা ‘অ্যাপার্টহাইড’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ফাদি আল-নাসান স্থানীয় আল-মুঘাইয়ির ক্লাবের হয়ে খেলতেন এবং ফিলিস্তিনের জাতীয় যুব দলের সদস্য ছিলেন।
শনিবার রামাল্লার প্যালেস্টাইন মেডিকেল কমপ্লেক্স থেকে তার মরদেহ নিজ গ্রাম আল-মুঘাইয়িরে নেওয়া হয়। পরে সেখানে তাকে দাফন করা হয়।
ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, বসতিস্থাপনকারীদের হামলার সময় ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ফাদির উরুতে আঘাত লাগে। গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসার অংশ হিসেবে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়। শেষ পর্যন্ত সেই আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়।
এক বিবৃতিতে পিএফএ জানায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ফিলিস্তিনি ক্রীড়াঙ্গনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ১৩ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৫৬৮ জন ফুটবলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন।
ফাদির বাবা হামদাল্লাহ আল-নাসান বলেন, হামলার সময় মেয়েদের চিৎকার শুনে তার ছেলে ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে গিয়েছিল। সেখানেই তিনি গুলিবিদ্ধ হন।
ফাদির মা হানান আল-নাসান বলেন, তার ছেলে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল এবং ফুটবলের প্রতি তার ছিল গভীর ভালোবাসা। তিনি বলেন, “সে খুব ভালো ছাত্র ছিল, খেলাধুলায়ও ভালো ছিল। সবাই তাকে ভালোবাসত।”
সূত্র: আল জাজিরা।