সারাবিশ্ব

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪০ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিশ্ববাজারে কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড অয়েলের দাম কমতে দেখা গেছে।

বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ৩৯ সেন্ট কমে ১০৪ ডলার ৬৭ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মানদণ্ড ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলার ৭ সেন্টে নেমে এসেছে।

এর আগে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোতে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। তবে বৃহস্পতিবার সকালে বাজারে নতুন করে দরপতন দেখা দেয়। এতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি সরবরাহ ও পরিবহনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ও তেলের দামের ওঠানামায় প্রভাব ফেলছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় হামলার শিকার হয়ে একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ ও একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ দিনে হরমুজ প্রণালির আশপাশে জাহাজে হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইরানের দাবি, দেশটির বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং গত মাসে আরোপ করা কঠোর নিষেধাজ্ঞার জবাবে তারা এ ধরনের পদক্ষেপ জোরদার করছে। তবে এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে সংঘাত বা জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং দামের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে, জাহাজে তেল পরিবহনের ব্যয় কমানো এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের উদ্যোগ বাজারে দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কোন দিকে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দামে আবারও ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে। বিপরীতে, জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন পরিস্থিতির উন্নতি হলে বাজারে দাম কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।