সারাবিশ্ব

জার্মান বিমানবন্দরে স্যুটকেসে ৯২ সরীসৃপ, উদ্ধার ৩৭ বিষাক্ত সাপ


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৮ এএম

জার্মান বিমানবন্দরে স্যুটকেসে ৯২ সরীসৃপ, উদ্ধার ৩৭ বিষাক্ত সাপ
ছবি: সংগৃহীত

জার্মানির কোলন বন বিমানবন্দরে এক যাত্রীর স্যুটকেস তল্লাশি করে ৩৭টি বিষাক্ত সাপ ও ৫৫টি গিরগিটি উদ্ধার করেছেন শুল্ক কর্মকর্তারা। মেক্সিকো থেকে আসা ওই যাত্রীর স্যুটকেসে প্লাস্টিকের খাবারের বাক্স, শ্যাম্পুর বোতল, প্রসাধনীর পাত্র ও মোজার ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল প্রাণীগুলো। এ ঘটনায় বিমানবন্দরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪৫ বছর বয়সী ওই যাত্রী পেশায় একজন অগ্নিনির্বাপণকর্মী এবং মেক্সিকোর নাগরিক। তিনি বিমানবন্দরের নির্ধারিত গ্রিন চ্যানেল বা সবুজ পথ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় শুল্ক কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

একপর্যায়ে ওই যাত্রীর ওপর মাদক শনাক্তকরণ পরীক্ষা চালানো হলে কোকেনের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এরপর তার স্যুটকেসে তল্লাশি চালানো হয়। তবে সেখানে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। বরং স্যুটকেসের ভেতরে বিভিন্ন উপায়ে লুকিয়ে রাখা ৩৭টি জীবন্ত বিষাক্ত সাপ ও ৫৫টি গিরগিটির সন্ধান পান কর্মকর্তারা। উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোর মধ্যে ভাইপার, র‌্যাটলস্নেক ও ইগুয়ানাও রয়েছে।

কোলন শুল্ক কার্যালয়ের মুখপাত্র জেন্স আহল্যান্ড বলেন, বিমানবন্দরে কর্মরত কর্মকর্তারা যাত্রীদের স্যুটকেসে বিভিন্ন ধরনের স্মারক ও ভ্রমণের সামগ্রী দেখতে অভ্যস্ত। তবে মেক্সিকো থেকে আনা ৩৭টি জীবন্ত বিষাক্ত সাপ ও ৫৫টি গিরগিটি উদ্ধারের ঘটনা তাদের কাছে একেবারেই ব্যতিক্রমী।

প্রাণীগুলোকে যেভাবে স্যুটকেসের মধ্যে গাদাগাদি করে লুকিয়ে পরিবহন করা হচ্ছিল, তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন আহল্যান্ড। তার মতে, এ ধরনের পদ্ধতিতে বন্য প্রাণী পরিবহন অত্যন্ত অমানবিক। এতে প্রাণীগুলোর জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্যুটকেসের ভেতরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রাপথে কিংবা উদ্ধারের পরপরই কয়েক ডজন প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে। আবদ্ধ পরিবেশে দীর্ঘ সময় থাকার কারণে প্রাণীগুলোকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জিজ্ঞাসাবাদে ওই যাত্রী দাবি করেন, ব্রাজিলে বসবাসকারী তার এক পরিচিত ব্যক্তির অনুরোধে তিনি প্রাণীগুলো ইউরোপে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে প্রাণীগুলো পরিবহনের অনুমতি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

জার্মানির সীমান্ত কর্তৃপক্ষ ওই যাত্রীকে দেশটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে। ফলে তাকে জার্মানিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে তাকে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ফেরত পাঠানো হয়। অন্যদিকে, উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোর মধ্যে বেঁচে যাওয়া সাপগুলোকে জার্মানির একটি সাপের খামারে রেখে পরিচর্যা করা হচ্ছে।

জার্মানির বিমানবন্দরগুলোতে বন্য প্রাণী পাচার নিয়ন্ত্রণ করা কর্তৃপক্ষের জন্য ক্রমেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। এর আগেও কোলন বন বিমানবন্দরে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। প্রায় ছয় বছর আগে বিমানবন্দরটির শুল্ক কর্মকর্তারা ২৬টি বিরল প্রজাতির মেক্সিকান সাপ উদ্ধার করেন। সেগুলোর মধ্যে ১০টি মারা গিয়েছিল। সে সময় খেলনা ও মিষ্টির মোড়কের আড়ালে পার্সেলের মাধ্যমে সাপগুলো জার্মানির বিভিন্ন ব্যক্তিগত সংগ্রাহকের কাছে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল।

জার্মানির শুল্ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশটিতে পরিচালিত ১ হাজার ৩০০টি পৃথক অভিযানে ৫৬ হাজার ৬০০টিরও বেশি সংরক্ষিত প্রাণী, উদ্ভিদ এবং সেগুলো থেকে তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনা বন্য প্রাণী পাচারের বিস্তার এবং বিপন্ন প্রজাতি সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।