সারাবিশ্ব

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধের ইঙ্গিত ভ্যান্সের


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধের ইঙ্গিত ভ্যান্সের
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের মতপার্থক্য থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে তিনি বলেছেন, কোনো একটি বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেও ট্রাম্পের অন্যান্য নীতিগত পদক্ষেপ ও অর্জনকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।

হোয়াইট হাউসের সাবেক মুখপাত্র শন স্পাইসারের সঞ্চালিত একটি অনুষ্ঠানে শুক্রবার দেওয়া বক্তব্যে ভ্যান্স এ ইঙ্গিত দেন। ইরান যুদ্ধের সমালোচক হিসেবে পরিচিত ডানপন্থী ভাষ্যকার টাকার কার্লসনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং এ যুদ্ধ নিয়ে দুজনের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি নিজের মতামত তুলে ধরেন।

ভ্যান্স বলেন, কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধ থাকতেই পারে। তাঁর ভাষায়, ‘কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে তাঁর (ট্রাম্পের) সঙ্গে আপনার মতবিরোধ থাকলেও সেই মতপার্থক্য থাকতে পারে। আর আমার মনে হয়, ওই বিষয়ে আমারও মতবিরোধ ছিল।’

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে কার্লসন ‘খুব, খুব ক্ষুব্ধ’ বলে উল্লেখ করেন ভ্যান্স। তিনি জানান, এ বিষয়ে কার্লসনের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগতভাবে এবং প্রকাশ্যেও আলোচনা হয়েছে। কার্লসনের অবস্থান সম্পর্কে তিনি অবগত এবং তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট।

কার্লসন একসময় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে সমালোচনা করে আসছেন। এ পরিস্থিতিতে ভ্যান্সের বক্তব্যে ইরান যুদ্ধের বিষয়ে তাঁর নিজের অবস্থান এবং ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য মতপার্থক্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্পের অর্জন উপেক্ষা না করার আহ্বান

কার্লসনের সঙ্গে আগের আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ভ্যান্স বলেন, কোনো একটি বিষয়ে মতবিরোধের কারণে ট্রাম্পের অন্যান্য অর্জনকে অস্বীকার করা ঠিক হবে না। তাঁর মতে, নির্দিষ্ট কোনো নীতির বিরোধিতা করার অর্থ এই নয় যে প্রশাসনের নেওয়া অন্য পদক্ষেপগুলোর স্বীকৃতিও প্রত্যাহার করে নিতে হবে।

ভ্যান্সের ভাষায়, ‘টাকারকে আমি যা বলেছি, তা হলো-একটি বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করতে গিয়ে অন্য সব অর্জনও যেন বাতিল করে না দেওয়া হয়।’

এরপর ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্তনীতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি-প্রক্রিয়ায় বর্ণভিত্তিক নীতির বিরোধিতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। ভ্যান্স প্রশ্ন করেন, সীমান্ত বন্ধ রাখা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে বলে তিনি যে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন, তার অবসান-এসব কি ট্রাম্পের এমন অর্জন নয়, যেগুলোর স্বীকৃতি দেওয়া উচিত?

ভ্যান্সের বক্তব্যে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসননীতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি-প্রক্রিয়ায় বর্ণভিত্তিক বিবেচনার বিরোধিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। তাঁর অবস্থান হলো, ইরান যুদ্ধ নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও প্রশাসনের অন্যান্য নীতি ও পদক্ষেপকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভ্যান্সের অবস্থান কতটা স্পষ্ট?

ভ্যান্সের বক্তব্যে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, ঠিক কোন বিষয়ে তাঁদের অবস্থান আলাদা ছিল, তা তিনি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেননি। একইভাবে, যুদ্ধের বিষয়ে তাঁর আপত্তির ধরন বা ব্যাপ্তি সম্পর্কেও স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি তিনি।

তাই তাঁর মন্তব্যকে ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ সীমিত। বরং বক্তব্যে তিনি একদিকে কার্লসনের ক্ষোভের বিষয়টি বোঝার কথা বলেছেন, অন্যদিকে ট্রাম্পের অন্যান্য নীতিগত পদক্ষেপের স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যে মতপার্থক্য এবং সমালোচনা ঘিরে যে আলোচনা চলছে, ভ্যান্সের এই মন্তব্য তাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে যুদ্ধের বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধের প্রকৃতি স্পষ্ট করতে আরও বিস্তারিত বক্তব্য প্রয়োজন।