সারাবিশ্ব
রাশিয়ার ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা চান জেলেনস্কি
রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর দাবি, মস্কোর ওপর কার্যকর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা গেলে রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধ এবং যুদ্ধের অবসানে তা ভূমিকা রাখতে পারে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) জেলেনস্কির এ আহ্বারের কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা স্থগিত রেখে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শীতকাল ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশটির আশঙ্কা, রাশিয়ার অব্যাহত হামলায় বিদ্যুৎ সরবরাহসহ গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের মার্কিন সিদ্ধান্তকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেছেন জেলেনস্কি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে উত্তেজনা বাড়লেও তিনি সরাসরি ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা এড়িয়ে গেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার ফলে ‘লিন্ডসে গ্রাহাম অ্যাক্ট’ কার্যত উপেক্ষিত হয়েছে। তাঁর মতে, প্রস্তাবিত আইনটি কার্যকর করা হলে রাশিয়ার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হতো, যা যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে পারত।
জেলেনস্কি আরও বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর করার উদ্যোগ এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট আইন বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টির পক্ষে আন্তর্জাতিক মহল, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের প্রতিটি সমর্থনই গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়া বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কিয়েভ। জেলেনস্কির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলায় দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ১৫টিরও বেশি জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এসব হামলার ফলে ইউক্রেনের জ্বালানি খাতের ওপর গুরুতর চাপ তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর দাবি, গত রাতে রুশ বাহিনী চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৩২টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালায়। এর মধ্যে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৮৯টি ড্রোন প্রতিহত বা ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। তবে হামলার ফলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কতটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
শীতের আগে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়ার হামলা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এ ধরনের হামলার কারণে সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ, পানি ও ঘর গরম রাখার প্রয়োজনীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন। তাঁদের মতে, এর ফলে শীতকালে দেশটির বেসামরিক জনগণের দুর্ভোগ বাড়তে পারে এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
এ ছাড়া, ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, আগামী মাসগুলোতে আরও বড় ধরনের হামলা চালানোর প্রস্তুতি হিসেবে রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মজুত করছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।
সব মিলিয়ে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার দাবি এবং ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় ধারাবাহিক হামলার অভিযোগ-দুই বিষয়ই চলমান যুদ্ধের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাগত পরিস্থিতিকে সামনে নিয়ে এসেছে। শীত ঘনিয়ে আসায় জ্বালানি সরবরাহের সুরক্ষা এবং রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর প্রচেষ্টা কিয়েভের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।