সারাবিশ্ব

রাশিয়ায় ইউক্রেনের নজিরবিহীন ড্রোন হামলা, ভূপাতিতের দাবি ১,০১৫টি


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৮ এএম

রাশিয়ায় ইউক্রেনের নজিরবিহীন ড্রোন হামলা, ভূপাতিতের দাবি ১,০১৫টি
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আপত্তি সত্ত্বেও শনিবার গভীর রাতে চালানো এ হামলাকে চলতি বছরের অন্যতম বৃহৎ ড্রোন হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। হামলায় রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি তেল টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় হতাহতের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে মোট ১ হাজার ১৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে এত বিপুলসংখ্যক ড্রোন প্রতিহত করার দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলার পর সেন্ট পিটার্সবার্গের গুরুত্বপূর্ণ তেল টার্মিনালটিতে আগুন ধরে যায়। এ ছাড়া একটি লজিস্টিক সেন্টার এবং একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ডেটা সেন্টারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন।

ট্রাম্প ও জেলেনস্কির সম্পর্কে বাড়ছে টানাপোড়েন

ইউক্রেনের এই হামলাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে বিদ্যমান মতবিরোধ আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার সমালোচনা করে ট্রাম্প একে অনুচিত বলে মন্তব্য করেছিলেন। একই সঙ্গে তাঁর দাবি ছিল, রাশিয়া ও ইউক্রেন জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে কিয়েভ ও মস্কো-কোনো পক্ষই এমন সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

অন্যদিকে, জেলেনস্কির দাবি, কথিত আলোচনা সত্ত্বেও রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি ও গ্যাস খাতে অন্তত ৭৬ বার হামলা চালিয়েছে। তাঁর মতে, রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার জবাব দিতেই ইউক্রেন পাল্টা আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। কিয়েভের অবস্থান হলো, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যমে মস্কোর যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা দুর্বল করা সম্ভব।

রাশিয়াকে সমর্থন দেওয়া হবে ‘ঐতিহাসিক ভুল’: জেলেনস্কি

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেন, রাশিয়াকে সমর্থন দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক ভুল’ হবে। তাঁর অভিযোগ, মস্কোর প্রতি নমনীয় অবস্থান এবং রাশিয়ার ওপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পদক্ষেপ দেশটিকে আরও আগ্রাসী হয়ে উঠতে উৎসাহিত করতে পারে।

জেলেনস্কির মতে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ কমে গেলে দেশটির যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা বাড়তে পারে। এ কারণে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে মস্কোর সামরিক ও জ্বালানি সক্ষমতা দুর্বল করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। তবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার নির্দিষ্ট পদক্ষেপ এবং তার প্রভাব সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তথ্য আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

চাপের মধ্যেও ড্রোন হামলা অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত কিয়েভের

যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা এবং রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক উদ্যোগ-সব মিলিয়ে ইউক্রেন বর্তমানে জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি। এর মধ্যেও নিজেদের প্রতিরক্ষা ও পাল্টা আক্রমণের সক্ষমতা বজায় রাখতে ড্রোন ব্যবহারের কৌশল অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে কিয়েভ।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় এ ধরনের হামলা দেশটির জ্বালানি সরবরাহ, রপ্তানি ও যুদ্ধের অর্থায়নের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে একই সঙ্গে এ ধরনের হামলা বেসামরিক হতাহত, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ায়।

সব মিলিয়ে, রাশিয়ায় ইউক্রেনের এই বড় ড্রোন হামলা দুই দেশের চলমান যুদ্ধের পাশাপাশি ওয়াশিংটন ও কিয়েভের সম্পর্কের ওপরও নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। যুদ্ধক্ষেত্রে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।