সারাবিশ্ব

কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৪ সেনা, আহত ৩৯


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১০ এএম

কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৪ সেনা, আহত ৩৯
ছবি: সংগৃহীত

কানাডার আলবার্টা প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চার সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩৯ জন। আহতদের মধ্যে অন্তত ১৯ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন প্রাদেশিক সরকারের প্রধান। তবে অগ্নিকাণ্ডের পেছনে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা নাশকতার সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কানাডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে আলবার্টা প্রদেশে অবস্থিত কানাডার অন্যতম ব্যস্ত সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র ‘কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েনরাইট’-এ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকে। প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে সামরিক প্রশিক্ষণ এলাকার প্রশাসনিক অংশের দিকে অগ্রসর হয়। এতে ঘাঁটিতে অবস্থানরত সেনাসদস্যদের মধ্যে হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

কানাডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা নাশকতার সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং কোন পরিস্থিতিতে তা এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

রোববার রাজধানী অটোয়া থেকে দেওয়া এক ভাষণে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ঘটনাটিকে একটি ভয়াবহ ট্র্যাজেডি হিসেবে বর্ণনা করেন। এ ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্য আহত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। অন্যদিকে, আলবার্টার প্রাদেশিক সরকারের প্রধান ড্যানিয়েল স্মিথ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আহত ৩৯ জনের মধ্যে অন্তত ১৯ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে নিহত চার সেনাসদস্য হলেন সার্জেন্ট মরগান ওং এবং সৈনিক শন ফারেল, এইডান গুল্ডিং ও হেইডেন লাইকমার্ক। তাদের মৃত্যুতে সামরিক বাহিনীতে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা সেনাসদস্যদের চিকিৎসায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনার সময় ঘাঁটির প্রশিক্ষণ এলাকায় পদাতিক বাহিনীর সদস্যরা আসল গোলাবারুদ ব্যবহার করে উচ্চমাত্রার যুদ্ধ প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছিলেন। কানাডার সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল ওয়েড রাটল্যান্ড সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে সেখানে গ্রেনেড লঞ্চার, গ্রেনেড, ছোট আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহার করা হচ্ছিল। তবে এসব সামরিক সরঞ্জামের কোনোটি অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের সঙ্গে জড়িত ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সামরিক কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে শুকনো ঘাসে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে অস্বাভাবিক তীব্র বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং গতিপথ পরিবর্তন করে প্রশিক্ষণকেন্দ্রের প্রশাসনিক এলাকার দিকে এগিয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় আগুন নেভাতে সামরিক বাহিনী ও জরুরি সেবাদানকারী দলগুলোকে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হয়।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্ধারকর্মী ও সামরিক সদস্যরা সারা রাত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে অভিযান চালান। এ সময় আগুনের বিস্তার ঠেকানো এবং আহতদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি ২২টি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করা হয়। পরে তাদের আলবার্টা প্রদেশের রাজধানী এডমন্টনের বিভিন্ন বড় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা ও হতাহতের ঘটনায় আলবার্টা প্রদেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলা, আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। একই সঙ্গে আগুন লাগার কারণ, এর বিস্তারের পেছনে আবহাওয়ার ভূমিকা এবং ঘটনার সময় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সঙ্গে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।