সারাবিশ্ব
বোমা হামলার হুমকি, ইসরায়েল থেকে আসা যাত্রীবাহী বিমানের জরুরি অবতরণ
ইসরায়েলের তেল আবিব থেকে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনাগামী একটি যাত্রীবাহী বিমানে বোমা হামলার হুমকি পাওয়ার পর বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় জরুরি অবতরণ করা হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) মাঝ আকাশে হুমকির তথ্য পাওয়ার পর যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানটি সোফিয়ায় অবতরণ করানো হয়।
বুলগেরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আলজাজিরা, এএফপি ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনসের ওএস৮২ (OS82) ফ্লাইটটি এয়ারবাস এ৩২০ মডেলের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ। তেল আবিব থেকে ভিয়েনার উদ্দেশে যাত্রা করা বিমানটি রোমানিয়ার সীমান্তবর্তী আকাশসীমার কাছাকাছি অবস্থান করার সময় বোমা হামলার হুমকির তথ্য পান ক্রুরা। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন।
বিমানটিকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে বুলগেরিয়ার বিমানবাহিনীর একটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান পাহারায় নিয়োজিত করা হয়। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকির মধ্যে যাত্রীবাহী বিমানটির নিরাপদ অবতরণ নিশ্চিত করতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বুলগেরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিমানটিতে ছয়জন ক্রু সদস্য ও ৫১ জন যাত্রী ছিলেন। জরুরি অবতরণের পর তাঁদের সবাই নিরাপদে বিমান থেকে নেমে আসেন। তবে বিমানে পাওয়া হুমকির প্রকৃতি এবং এর পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনস জানিয়েছে, জরুরি অবতরণের পর বিমানটিতে নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়েছে। তল্লাশির মাধ্যমে সম্ভাব্য ঝুঁকি যাচাই করা হচ্ছে। নিরাপত্তা কার্যক্রম শেষ হলে যাত্রীদের যত দ্রুত সম্ভব বিকল্প ফ্লাইটে তাঁদের নির্ধারিত গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
এ ঘটনায় বুলগেরিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি জরুরি সাড়াদানকারী দল গঠন করেছে। পাশাপাশি বোমা হামলার হুমকির উৎস, এর বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ঘটনার সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয়।
বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণবিষয়ক ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ মিনিটে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাত ৯টা ৪৩ মিনিটে বুলগেরিয়ার সোফিয়ার ভাসিল লেভস্কি বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
অন্যদিকে, ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে বিমানটি রোমানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এরপর বিমানটি দক্ষিণ দিকে ঘুরে বুলগেরিয়ার দিকে ফিরে আসে। গতিপথের এই পরিবর্তন জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এডিএস-বি এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে বিমানটি ৭৭০০ জরুরি সংকেতও সম্প্রচার করছিল। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে ৭৭০০ সংকেত সাধারণ জরুরি পরিস্থিতি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। তবে এই সংকেত একাই জরুরি পরিস্থিতির নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করে না।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত বোমা হামলার হুমকির সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিমানটিতে কোনো বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক বস্তু পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।