সারাবিশ্ব

ইরানে যাচ্ছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম

ইরানে যাচ্ছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন এবং কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার করতে ইরান সফরে যাচ্ছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। সফরে তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে এই সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আরআইএ নভোস্তির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরকালে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে চলমান পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ এবং সংকট নিরসনে মস্কোর কূটনৈতিক তৎপরতা আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনার অংশ হতে পারে।

বৈঠকে রাশিয়া ও ইরানের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও যোগাযোগের মাধ্যমে যেসব দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা এবং চুক্তি হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়নের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করবেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা কীভাবে আরও সম্প্রসারণ করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

এর আগে গত রোববার বাহরাইনের রাজধানী মানামায় রাশিয়া-গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) নবম কৌশলগত সংলাপের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ল্যাভরভ। সেখানে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা করেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে দেওয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অবস্থান শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সহায়ক নয়।

ল্যাভরভের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইন ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করাই সংকট মোকাবিলার কার্যকর পথ। তাঁর মতে, হুমকি ও চাপের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছানো প্রয়োজন, যা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর স্বার্থ ও মর্যাদাকে সম্মান করবে। মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা নিরসনে এ ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংকট নিয়েও রাশিয়ার অবস্থান তুলে ধরেন ল্যাভরভ। ইয়েমেনের চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে রাশিয়া এবং উপসাগরীয় দেশগুলো শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে রয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, রাজনৈতিক সংলাপ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে ইয়েমেনে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্য ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বিস্তৃত ও সমন্বিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর প্রস্তাবে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর পাশাপাশি ইরান, ইরাক, জর্ডান এবং অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারকারী বাইরের শক্তিগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। ল্যাভরভের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণ এবং পারস্পরিক আস্থা প্রতিষ্ঠা জরুরি।

চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট যাতে নতুন করে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ না নেয়, সে জন্য আরব দেশগুলোর নেওয়া উদ্যোগ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার প্রতি মস্কো সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলেও জানান ল্যাভরভ। তাঁর বক্তব্যে আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলায় সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ, সহযোগিতা ও কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

রাশিয়া-জিসিসি কৌশলগত সংলাপের আওতায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, ওমান ও কাতারের সঙ্গে মস্কোর যোগাযোগ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাশিয়ার এই কূটনৈতিক তৎপরতা এবং ল্যাভরভের তেহরান সফর মস্কো ও তেহরানের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সফরের আলোচনায় কী সিদ্ধান্ত আসবে, তা জানতে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও বৈঠকের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।