সারাবিশ্ব

ফ্রান্সে বিক্ষোভ থেকে ভয়াবহ সহিংসতা, ইউরোপজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম

ফ্রান্সে বিক্ষোভ থেকে ভয়াবহ সহিংসতা, ইউরোপজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষা খাতে সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ফ্রান্সে ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। কয়েক বছরের মধ্যে দেশটির অন্যতম গুরুতর অস্থিরতা হিসেবে বিবেচিত এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন শহরে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের একাংশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে হয়েছে। ফ্রান্সের এই অস্থিরতা ইউরোপের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে-এমন আশঙ্কায় উদ্বেগ বাড়ছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে।

বিক্ষোভ ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক গ্রেপ্তার, হতাহত এবং সরকারি ও বেসরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে এসেছে। বিভিন্ন শহরে দোকানপাট ভাঙচুর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাট এবং সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থাপনায় আগুন লাগার খবরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এসব ঘটনায় সরকারের ভূমিকা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি এবং সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বিক্ষোভে হতাহত ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারের ওপরও বাড়ছে চাপ। বিক্ষোভের পেছনে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অসন্তোষ, শিক্ষা খাতের সীমাবদ্ধতা এবং ধনী-দরিদ্রের বৈষম্যকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কেন এত দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার আগে থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলো কি না। অন্যদিকে, সহিংসতার দায় কার ওপর বর্তাবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য।

ফরাসি কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা বলছেন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অধিকাংশ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি তুলে ধরতে চেয়েছেন। তবে বিক্ষোভের সুযোগে যারা অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ভাঙচুরে জড়িয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার স্বীকৃত হলেও সহিংসতা ও সরকারি সম্পদ ধ্বংসের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

রবিবার সন্ধ্যায় পরিস্থিতি পর্যালোচনার সময় প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যারা ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছেন, তাদের আইনের মুখোমুখি হতে হবে এবং ক্ষয়ক্ষতির দায় নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দাবি শুনে বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ খুঁজতে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উঠে আসে। তবে সরকারের এমন আশ্বাস চলমান অস্থিরতা প্রশমনে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে শিক্ষা খাতের সংকটকে কেন্দ্র করে। গত সেপ্টেম্বর মাসে প্যারিসের উপকণ্ঠের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, প্রয়োজনীয় সম্পদ সরবরাহ এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের দাবিতে কর্মসূচি শুরু করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দাবি আদায়ের আন্দোলন থাকলেও পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও এতে যুক্ত হন। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকসংকট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী এবং পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাব নিয়ে অসন্তোষ জমে থাকায় আন্দোলন দ্রুত বিস্তৃত হয়।

এর মধ্যে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক ছাত্রীর ওপর নিষিদ্ধ কৌশলে শারীরিক নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগের অভিযোগসংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভ আরও বাড়ে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পুলিশের আচরণ নিয়ে বিতর্ক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের অভিযোগ আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দেয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের দাবি ছাড়িয়ে বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত হয় জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বেকারত্ব, আয়বৈষম্য এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ।

আন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ পরিস্থিতিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, জ্বালানি ও আবাসনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় হতাশা বাড়ছে। চাকরির আশ্বাস থাকলেও বাস্তবে অনেক তরুণ প্রত্যাশিত কর্মসংস্থান পাচ্ছেন না বলে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য। এসব অর্থনৈতিক চাপের সঙ্গে শিক্ষা ও সামাজিক সেবার সংকট যুক্ত হয়ে জনঅসন্তোষকে তীব্র করেছে।

শনিবারের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের বিভিন্ন স্থানে বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন। দিনের বেলায় অনেক জায়গায় সমাবেশ শান্তিপূর্ণ থাকলেও রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি শহরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। প্যারিসে দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। লিওঁ শহরেও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া যায়। বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে উঠে আসে লিমোজেস শহরের ঐতিহাসিক সিটি হলের অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ১৪৩ বছরের পুরোনো ভবনটির গম্বুজে আগুন লাগে এবং সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঐতিহাসিক স্থাপনায় এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। ঘটনাটি অনেকের মনে নটর ডাম ক্যাথেড্রালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। তবে এসব ঘটনার সুনির্দিষ্ট বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ভরযোগ্য সূত্রে যাচাই করা জরুরি।

রবিবার কিছু এলাকায় পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। প্যারিসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের উত্তেজনার খবর পাওয়া যায়। সোমবার সকালে ল্যুভর জাদুঘরের প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে মার্সেই শহরে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারির খবরও সামনে আসে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।

সহিংসতার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে, শহরের রাস্তাঘাট, দোকানপাট ও ঐতিহাসিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশের দাবি, মানুষের প্রকৃত সমস্যাগুলো সমাধান না করায় অসন্তোষ এতটা তীব্র হয়েছে। তাদের মতে, কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করে সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; বরং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

সংকট মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জ্বালানির মূল্য কমানো এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা, সময়সীমা এবং সাধারণ মানুষের জীবনে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত স্পষ্ট করা হয়নি। এদিকে সরকারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে পরিস্থিতির ভয়াবহতা আগেভাগে অনুমান করতে না পারার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তার পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া এবং প্রেসিডেন্টের তা প্রত্যাখ্যান করার বিষয়টিও রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে।

ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই অস্থিরতার প্রভাব পড়তে পারে। নির্বাচনের আগে জনমত, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সরকারের সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। ডানপন্থী রাজনীতিক মারিন ল্য পেনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উগ্র বামপন্থীদের ভূমিকার সমালোচনা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে, বামপন্থী নেতা জঁ-লুক মেলঁশোঁ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্যও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

ফ্রান্সের বাইরেও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক চাপ, আবাসনসংকট এবং সরকারি সেবার মান নিয়ে অসন্তোষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বেলজিয়ামে শিক্ষা খাতের সমস্যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ, পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে জীবনযাত্রার ব্যয় ও আবাসনসংকটের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ এবং ইতালির মিলানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আলবেনিয়ায় দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনও রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। তবে এসব দেশের আন্দোলনের কারণ ও ধরন এক নয়; তাই ফ্রান্সের পরিস্থিতির সঙ্গে সব ঘটনাকে একই সূত্রে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না।

ফ্রান্সের অস্থিরতা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিমোজেসের সিটি হলে অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও শেয়ার করে অভিবাসননীতির সমালোচনা করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব বক্তব্যের সুনির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট ও সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, ফ্রান্সের চলমান সংকট কেবল আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শিক্ষা খাতের দুর্বলতা, জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান, সামাজিক বৈষম্য এবং রাজনৈতিক আস্থার প্রশ্ন। সহিংসতা বন্ধে কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অসন্তোষের কারণগুলো সমাধান করা জরুরি। অন্যথায় পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ফ্রান্সের অর্থনীতি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ইউরোপের সামগ্রিক সামাজিক পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে ইউরোপজুড়ে একই ধরনের অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়বে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পরিস্থিতি, সরকারের পদক্ষেপ এবং আন্দোলনের গতিপ্রকৃতির ওপর।