সারাবিশ্ব
কলম্বিয়ায় অবৈধ স্বর্ণখনি ধসে প্রাণহানি ১৪, নিখোঁজ ১৫ জন
দক্ষিণ-পশ্চিম কলম্বিয়ায় একটি অবৈধ স্বর্ণখনি ধসে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন। দুর্ঘটনার পর থেকে ১২ থেকে ১৫ জন খনিশ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। সোমবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলম্বিয়ার নারিনো বিভাগের সান্তা বারবারা দে ইসকুয়ান্দে পৌরসভার প্রত্যন্ত চামবেরো এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্গম এলাকায় অবস্থিত খনিটিতে ধসের পর হতাহতদের উদ্ধার এবং নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধানে তৎপরতা চালানো হয়।
নারিনো বিভাগের গভর্নর লুইস আলফোনসো এসকোবার জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। তবে দুর্যোগ মোকাবিলা বিভাগের কর্মকর্তা হোর্হে তোভার কাস্তিলোর ভাষ্য অনুযায়ী, আরও ১২ থেকে ১৫ জন খনিশ্রমিক নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে দুর্ঘটনাস্থলটি প্রত্যন্ত এলাকায় হওয়ায় যোগাযোগ ও উদ্ধারকাজ পরিচালনায় নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
ঘন বনাঞ্চলে ঘেরা সান্তা বারবারা দে ইসকুয়ান্দে এলাকায় সড়কপথে যাতায়াতের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। সেখানে পৌঁছাতে সাধারণত নৌকা কিংবা ছোট উড়োজাহাজের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছানো, উদ্ধার সরঞ্জাম পরিবহন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া কর্তৃপক্ষের জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
গভর্নর এসকোবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে খনিটিকে অনানুষ্ঠানিক খনি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কলম্বিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিত ও অনানুষ্ঠানিক খনন কার্যক্রম চলে আসছে। এসব খনিতে যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং প্রয়োজনীয় তদারকির ঘাটতি থাকায় প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে। খনির কাঠামোগত দুর্বলতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার অভাব শ্রমিকদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
এর আগে গত আগস্টে নারিনো বিভাগের পলিকারপা পৌরসভায় একই ধরনের একটি খনি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছিলেন। পরপর এ ধরনের দুর্ঘটনা কলম্বিয়ার অনিয়ন্ত্রিত খনন কার্যক্রমে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
গভর্নর এসকোবার দুর্ঘটনায় নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবারের পাশে থাকার এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন। নিখোঁজ শ্রমিকদের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ এবং দুর্ঘটনার পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।