সারাবিশ্ব

মধ্যপ্রাচ্যের ১২ দেশে মার্কিন নাগরিকদের সতর্কতা, হামলা ও বিমান চলাচল নিয়ে উদ্বেগ


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১০ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের ১২ দেশে মার্কিন নাগরিকদের সতর্কতা, হামলা ও বিমান চলাচল নিয়ে উদ্বেগ
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্ভাব্য হামলা ও নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে অঞ্চলটির ১২টি দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্ভাব্য সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়া, ফ্লাইট বাতিল এবং আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

গতকাল সোমবার ইসরায়েল, সৌদি আরব, ইরাক, লেবানন, জর্ডান, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন ও ইরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য এ সতর্কতা জারি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, ইরান ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়লে এর প্রভাব পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর পড়তে পারে। এতে আকাশপথে যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফ্লাইট চলাচলেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি রয়েছে।

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, চলমান সংঘাত দ্রুত আশপাশের দেশ ও এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন নাগরিকদের আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে হামলার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থা রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল হিসেবে উল্লেখ করেছে। দূতাবাসের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানানো হয়। হামলার ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটার পাশাপাশি যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তাসংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, গত রোববার কাতারে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দেশটিতে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সরকারি সতর্কবার্তা ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি বিক্ষোভ, বড় ধরনের জমায়েত এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থান এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার বিষয়েও নাগরিকদের সতর্ক করা হয়েছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলেও। কাতার এয়ারওয়েজ গত সোমবার জানিয়েছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও দাম্মামে তাদের ফ্লাইট চলাচল ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া জেদ্দায় প্রতিদিনের ফ্লাইটের সংখ্যা সাতটি থেকে কমিয়ে চারটিতে নামানোর সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছে। এতে সৌদি আরবগামী ও সেখান থেকে অন্য গন্তব্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা বাড়ায় বিভিন্ন দেশের নাগরিক ও আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে আকাশপথে যোগাযোগ, বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং যাত্রী পরিবহনে এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে। তবে পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপ্রকৃতি নির্ভর করবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পদক্ষেপের ওপর।