সারাবিশ্ব

হরমুজ প্রণালিতে দুই তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন, মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২২ পিএম

হরমুজ প্রণালিতে দুই তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন, মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে মাইনে আঘাতের পর দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন লাগার খবর জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে বাহিনীটি। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন রুটটিতে নিরাপত্তা ও নৌ চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে আইআরজিসির বরাত দিয়ে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে মাইনে আঘাত করার পর দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। তবে ট্যাংকার দুটির নাম, কোন দেশের পতাকাবাহী জাহাজ সেগুলো, আগুন লাগার ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না এবং কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে-এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে তেল কোম্পানিগুলোকে আরও বড় মূল্য দিতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আইআরজিসি। বাহিনীটির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ আচরণ ও কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও বড় ধরনের পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তবে এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানি বা সম্ভাব্য পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এদিকে, হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে আইআরজিসি। বাহিনীটির দাবি, সোমবার ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়। তবে ড্রোনটি কোথায় ভূপাতিত হয়েছে, সেটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে কি না কিংবা এ ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তাও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।

বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যে হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের ক্ষেত্রে এই প্রণালি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই পথের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এখানে সামরিক উত্তেজনা বা জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়লে তেল ও গ্যাস পরিবহনে বিলম্ব, জাহাজের বিমা ব্যয় বৃদ্ধি এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামেও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতি, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পরিবহন খাতেও।

তবে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন লাগা এবং মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করার বিষয়ে আইআরজিসির দাবিগুলোর স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। জাহাজ দুটির পরিচয়, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য স্বাধীন সূত্রের তথ্য পাওয়া না পর্যন্ত বিষয়গুলোকে ইরানের দাবি হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।