সারাবিশ্ব
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে ‘নাৎসি কৌশল’ ব্যবহারের অভিযোগ রুবিওর
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার মাধ্যমে ইরান নাৎসি জার্মানির কৌশল অনুসরণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তাঁর দাবি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এমন কৌশলের পুনরাবৃত্তি দেখা যায়নি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের পদক্ষেপ ও পরিকল্পনার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও এসব কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইরান প্রকাশ্যেই বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর কথা বলছে এবং যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই-এমন নাবিকদেরও হত্যার ঝুঁকিতে ফেলছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও সেগুলো ডুবিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।
রুবিও বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এমন কর্মকাণ্ড দেখা যায়নি। তাঁর অভিযোগ, ইরান নাৎসি জার্মানির ডুবোজাহাজ পরিচালনার কৌশল অনুসরণ করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাতে বিশ্বের দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন বাহিনী কাজ করছে বলে দাবি করেছেন রুবিও। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই অঞ্চলে ইরানের চালানো অধিকাংশ হামলার প্রচেষ্টাই যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী প্রতিহত করেছে। তবে এসব দাবি নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কী বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক তৎপরতার আভাস পাওয়া গেছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম নূরনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মধ্যস্থতার উদ্যোগ ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। বৈঠকে চলমান সংকট নিরসনের সম্ভাব্য পথ নিয়েও আলোচনা হয়ে থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি থেকে ধারণা করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গেও বৈঠক করেন। ইরানের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বৈঠকসংক্রান্ত বিবরণ অনুযায়ী, গালিবাফ বলেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান গত মাসে যে সাতটি শর্ত দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সেগুলো পূরণ না করা পর্যন্ত ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের আস্থা ফিরবে না।
ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান বিরোধের জেরে দেশটির বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া। পাশাপাশি আঞ্চলিক সব রণাঙ্গনে সংঘাত বন্ধের দাবিও জানিয়েছে তেহরান। এ দাবির আওতায় লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এ পথে নৌ চলাচল ব্যাহত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ অব্যাহত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
একদিকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, অন্যদিকে অবরোধ প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে ইরানের অনড় অবস্থান-সব মিলিয়ে সংকট নিরসনের পথ এখনো জটিল। পরিস্থিতির উন্নতি নির্ভর করছে দুই দেশের অবস্থান, আঞ্চলিক সংঘাতের গতিপ্রকৃতি এবং চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর।