সারাবিশ্ব

ইরানে নতুন হামলার প্রস্তুতি নেতানিয়াহুর, ট্রাম্পের আপত্তিতে থামল পরিকল্পনা


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম

ইরানে নতুন হামলার প্রস্তুতি নেতানিয়াহুর, ট্রাম্পের আপত্তিতে থামল পরিকল্পনা
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন না পাওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের সঙ্গে নতুন করে সামরিক সংঘাতে জড়াতে চাননি ট্রাম্প। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, গত ১০ অক্টোবরের সপ্তাহান্তে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কেন্দ্র, জ্বালানি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু করতে আগ্রহী ছিলেন না ট্রাম্প। ফলে ইসরায়েলের পরিকল্পিত হামলায় তাঁর সমর্থন মেলেনি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলাগুলো বাস্তবায়িত হলে তা গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো হামলার চেয়েও অনেক বেশি তীব্র হতে পারত। তবে সম্ভাব্য এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নিত কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র অবশ্য জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানের সঙ্গে সংঘাত আবারও শুরু হওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানে হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি নতুন তালিকা তৈরি করেছে ইসরায়েল। এতে এমন কিছু বেসামরিক অবকাঠামোও রাখা হয়েছে, যেগুলোতে এর আগে হামলা চালানো হয়নি। তবে ইসরায়েলের এই প্রস্তুতি সরাসরি সামরিক অভিযান শুরুর পরিকল্পনা ছিল, নাকি ইরানের সঙ্গে আলোচনায় চাপ সৃষ্টির কৌশল-তা নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্রের ধারণা, ইরানে হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার মাধ্যমে তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চেয়েছিল ইসরায়েল। তবে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হবে কি না, সে সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পেন্টাগনের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ইসরায়েলে গোপন সফরের খবরও সামনে এসেছে। ওই সফরে তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে। তবে সফরের বিস্তারিত বিষয় প্রকাশ্যে আসেনি।

ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে নেতানিয়াহুর আগ্রহের খবর এর আগেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাবে না। এর কয়েক দিন আগে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির তাঁর মার্কিন সমকক্ষদের সতর্ক করেছিলেন যে, ইরানে হামলা হলে আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় ইসরায়েলি নির্বাচন স্থগিত হয়ে যেতে পারে।

ইসরায়েলের উদ্বেগের অন্যতম কারণ ছিল ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা। দেশটির আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

এ ছাড়া, গত সপ্তাহে ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২৭ অক্টোবরের ইসরায়েলি নির্বাচন এবং ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই অভিযান শুরুর বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

সব মিলিয়ে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান নিয়ে ইসরায়েলের প্রস্তুতি, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কা-এই তিনটি বিষয় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।