সারাবিশ্ব
‘মাটি খেয়ে থাকব, তবু এক ইঞ্চি জমি ছাড়ব না’, হুঁশিয়ারি ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
ইরানের ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন দেশটির নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহেরদাদ আখলাঘি। প্রয়োজনে চরম সংকটের মধ্যেও থাকতে হবে, তবু দেশের এক ইঞ্চি জমিও ছেড়ে দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। তাঁর এ বক্তব্যে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার এবং যেকোনো সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার বার্তা উঠে এসেছে।
ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর দেওয়া বক্তব্যে আখলাঘি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ঘণ্টাতেই তিনি দেশটির সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিশেষ করে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মহাকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী এবং ইরানি সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা পূরণের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
আখলাঘি বলেন, ইরানকে বারবার দেওয়া হুমকির জবাব শুধু কথার মাধ্যমে দেওয়া হবে না। বরং এসব হুমকিকে আরও উন্নত সামরিক প্রস্তুতি এবং কার্যকর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্জনের প্রেরণা হিসেবে কাজে লাগানো হবে। নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “প্রয়োজনে আমরা মাটি খেয়ে থাকব, তবু এক ইঞ্চি ভূখণ্ড ছাড়ব না।” তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় তেহরানের অনমনীয় অবস্থানের বিষয়টি সামনে এসেছে।
প্রতিরক্ষা খাতে দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই ক্ষেপণাস্ত্র, মহাকাশ এবং আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। এসব বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা পূরণে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে আখলাঘি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সম্ভাব্য সামরিক হুমকি মোকাবিলায় ইরানের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি আরও জোরদার করার বিষয়টি তাঁর অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে।
ইরানের প্রতিরক্ষা নীতিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বিদ্যমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এসব সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর তেহরানের গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় আসতে পারে। তবে আখলাঘির বক্তব্যে কোনো নির্দিষ্ট দেশ, হুমকি বা সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আখলাঘির বক্তব্যের মূল বার্তা হলো-বাহ্যিক চাপের মুখেও ইরান তার ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে ছাড় দিতে চায় না। একই সঙ্গে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি।