সারাবিশ্ব

তিন হাজার পাউন্ডের মাইলফলক পেরিয়ে বিশ্বরেকর্ড, কৃষকের কুমড়ার ওজন ১,৪৩২ কেজি


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম

তিন হাজার পাউন্ডের মাইলফলক পেরিয়ে বিশ্বরেকর্ড, কৃষকের কুমড়ার ওজন ১,৪৩২ কেজি
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের এক কৃষকের ফলানো বিশাল আকৃতির কুমড়ার ওজন ছাড়িয়েছে ৩ হাজার পাউন্ডের মাইলফলক। রন ওয়ালেস নামের ওই কৃষকের ফলানো কুমড়াটির ওজন ৩ হাজার ১৫৬ পাউন্ড, যা প্রায় ১ হাজার ৪৩২ কেজির সমান। বিশ্বের সবচেয়ে ভারী কুমড়া হিসেবে এটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে জায়গা করে নিয়েছে। বিশাল আকৃতির এই কুমড়া দিয়ে আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের এই কৃষক।

স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের ওয়ারেন এলাকায় সাউদার্ন নিউ ইংল্যান্ড জায়ান্ট পাম্পকিন গ্রোয়ার্স আয়োজিত ওজন নির্ধারণ প্রতিযোগিতায় কুমড়াটির ওজন মাপা হয়। এর মধ্য দিয়ে মাত্র এক সপ্তাহ আগে গড়া বিশ্বরেকর্ড ভেঙে দেন ওয়ালেস। এর আগে ৩ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের কৃষক ইয়ান প্যাটন ২ হাজার ৮৫৭ পাউন্ড ওজনের কুমড়া ফলিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। তবে ওয়ালেসের কুমড়াটি আগের রেকর্ডের তুলনায় প্রায় ৩০০ পাউন্ড বেশি ভারী।

ওয়ালেসের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ছয় মাসের পরিচর্যা, পরিকল্পিত চাষাবাদ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগ। গত ১৫ এপ্রিল নিজের গ্রিনহাউসে একটি ছোট বীজ রোপণ করেছিলেন তিনি। নিয়মিত পরিচর্যা ও অনুকূল পরিবেশে সেই বীজ থেকেই জন্ম নেয় রেকর্ড গড়া বিশাল কুমড়াটি। এ বছরই প্রথমবারের মতো গ্রিনহাউসে কুমড়া চাষ করেন ওয়ালেস। এতে তাপমাত্রা, পানির পরিমাণসহ চাষের বিভিন্ন বিষয় নিয়ন্ত্রণ করা তাঁর জন্য সহজ হয়েছে।

কুমড়াটির বৃদ্ধির সবচেয়ে দ্রুত পর্যায়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০ পাউন্ড পর্যন্ত ওজন বাড়ছিল। কোনো কোনো সপ্তাহে এর ওজন বেড়েছে প্রায় ৫০০ পাউন্ড। উপযুক্ত জাতের বীজ নির্বাচন, অনুকূল আবহাওয়া, নিয়মিত পরিচর্যা এবং চাষের বৈজ্ঞানিক কৌশল-সবকিছুর সমন্বয়েই এমন অসাধারণ সাফল্য এসেছে বলে মনে করেন ওয়ালেস।

তবে এত বিশাল আকৃতির কুমড়া ফলানোই শুধু নয়, সেটিকে প্রতিযোগিতাস্থলে নিয়ে যাওয়াও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কুমড়াটি মাটি থেকে তুলতে বিশেষ হারনেস ও ভারী দড়ি ব্যবহার করা হয়। পরিবহনের সময় ক্ষতি এড়াতে ভেজা চাদর, কম্বল ও প্লাস্টিকের আবরণ দিয়ে সেটিকে ঢেকে রাখা হয়। এরপর বিশেষভাবে তৈরি একটি পাটাতনে তুলে ট্রাকে করে প্রতিযোগিতার স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রতিযোগিতায় ওয়ালেসের কুমড়াটিকে প্রায় ২০টি বিশাল আকৃতির কুমড়ার সঙ্গে লড়তে হয়। ওজন মাপার আগে তাঁর ধারণা ছিল, কুমড়াটির ওজন ৩ হাজার পাউন্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেই ধারণাই সত্যি হয়। তবে ওজন ৩ হাজার ১৫৬ পাউন্ডে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রতিযোগিতাস্থলে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দেয়। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো কুমড়া ৩ হাজার পাউন্ডের সীমা অতিক্রম করল।

বিশাল কুমড়া ফলিয়ে রেকর্ড গড়ার অভিজ্ঞতা অবশ্য ওয়ালেসের জন্য নতুন নয়। ২০০৬ সালে তিনি ১ হাজার ৫০২ পাউন্ড ওজনের কুমড়া ফলিয়ে প্রথমবারের মতো ১ হাজার ৫০০ পাউন্ডের সীমা অতিক্রম করেন। এরপর ২০১২ সালে তাঁর ফলানো আরেকটি কুমড়ার ওজন দাঁড়ায় ২ হাজার ৯ পাউন্ডে। সেটিও ছিল একটি ঐতিহাসিক অর্জন, কারণ প্রথমবারের মতো কোনো কুমড়া ২ হাজার পাউন্ডের মাইলফলক পেরিয়েছিল। তবে এবারের সাফল্যকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন তিনি।

ওয়ালেসের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর ধরে কুমড়া চাষের বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন তিনি। বীজ নির্বাচন থেকে শুরু করে তাপমাত্রা, পানি ও পরিচর্যার কৌশল-প্রতিটি বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন। এবার সেই অভিজ্ঞতা ও পরীক্ষার ফল একসঙ্গে কাজে লাগায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পেয়েছেন তিনি।

বিশাল আকৃতির কুমড়া চাষের ক্ষেত্রে কৃষকদের পারস্পরিক সহযোগিতাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ওয়ালেস। তাঁর মতে, এই চাষের সঙ্গে যুক্ত কৃষকেরা নিজেদের অভিজ্ঞতা, বীজ ও চাষের কৌশল একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেন। পারস্পরিক সহযোগিতা ও ধারাবাহিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিবছর আরও বড় আকারের কুমড়া ফলানোর সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। ফলে এ ধরনের বিশ্বরেকর্ড শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং কুমড়া চাষের নতুন কৌশল উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখছে।

বিশ্বরেকর্ড গড়া কুমড়াটিকে বিভিন্ন উৎসবে প্রদর্শন করা হবে। পরে এটি দিয়ে তৈরি করা হবে বিশাল জ্যাক-ও’-ল্যান্টার্ন, যা হ্যালোইন উৎসবে কুমড়ার খোলস খোদাই করে তৈরি বিশেষ আলোকসজ্জা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। উৎসব শেষে কুমড়াটিকে কম্পোস্টে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এর কিছু বীজ সংরক্ষণ করে বিশ্বের বিভিন্ন কুমড়া চাষিদের সংগঠনে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব বীজ নিলামে তুলে পাওয়া অর্থ তহবিল সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করা হবে।

এত বড় কুমড়া ফলানোর পরও ভবিষ্যতে এর চেয়ে বড় কুমড়া উৎপাদনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না ওয়ালেস। তাঁর মতে, কুমড়ার সর্বোচ্চ আকার কত হতে পারে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। আপাতত অন্য কৃষকদের তাঁর রেকর্ড ভাঙার সুযোগ দিতে চান তিনি। তবে কেউ নতুন রেকর্ড গড়লে আবারও প্রতিযোগিতায় নামার ইঙ্গিত দিয়েছেন এই কৃষক। ফলে বিশাল কুমড়া ফলানোর এই প্রতিযোগিতায় ভবিষ্যতে আরও নতুন রেকর্ড দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন কৃষিপ্রেমীরা।