সারাবিশ্ব
হরমুজ প্রণালিতে এক রাতেই ৭ তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের হুঁশিয়ারি
হরমুজ প্রণালিতে রাতভর হামলা ও নৌ-মাইনের আঘাতে অন্তত সাতটি তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার ইরানি কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। তবে এসব ঘটনার স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো স্পষ্ট নয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর সূত্র উদ্ধৃত করে ট্যাংকারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর প্রচার করেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে সতর্ক করেছে তেহরান। ইরানের হুঁশিয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আবারও হামলা চালানো হতে পারে।
তবে সর্বশেষ এসব ঘটনায় কেউ নিহত বা আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকারগুলোর নাম, সেগুলোর মালিকানা এবং কোন জাহাজ কী ধরনের হামলা বা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) তাৎক্ষণিকভাবে এসব হামলার খবর নিশ্চিত করেনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে হামলা কিংবা দুর্ঘটনার তথ্য প্রকাশে অনীহা দেখা যাচ্ছে বলে পর্যবেক্ষকদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালিতে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এই প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরেই হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান তুলে ধরে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি কিংবা কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রে এই জলপথের ওপর প্রভাবকে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারও চাপে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ইসরায়েলে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। জ্বালানির উচ্চমূল্য ও মূল্যস্ফীতি মার্কিন ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াতে পারে-এমন পরিস্থিতিতে ইরানকে ঘিরে নতুন সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিতে এক রাতে সাতটি তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ইরানি দাবি এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার নতুন হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। তবে হামলার প্রকৃত ধরন, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য যাচাইয়ের পরই পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।