সারাবিশ্ব
তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধসে পড়েছে ৩৩৯ বাড়ি, নিহত ১৬
চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এতে ৩৩৯টি বাড়ি ধসে পড়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এ ঘটনায় আরও ৩২ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে নাগচু অঞ্চলের বাচেন কাউন্টিতে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির এসব তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। বার্তা সংস্থা সিনহুয়া স্থানীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর বরাতে জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল তিব্বতের নাগচু অঞ্চলের বাচেন কাউন্টি।
১৯৫০ এর দশকে তিব্বতকে নিজেদের ভূখণ্ডে অন্তর্ভুক্ত করার পর চীন অঞ্চলটিকে ‘তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল’ হিসেবে অভিহিত করে। বাচেন কাউন্টি অঞ্চলটির রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।
ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ৩৩৯টি বাড়ি ধসে পড়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে ভূমিকম্পের পর পাহাড় থেকে পাথর ধসে পড়ায় ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে দুর্গম ও উঁচু এলাকায় উদ্ধারকর্মীদের পৌঁছানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিব্বতের কামদো ও নিংচি শহরেও ভূমিকম্পের তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অন্ধকারের মধ্যে ভবনগুলো প্রচণ্ডভাবে কাঁপতে থাকলে গ্রামবাসীরা ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসছেন। তবে ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
তিব্বত বরাবরই ভূমিকম্পের কারণে বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে থাকা একটি অঞ্চল। ২০২৩ সালে চীনের পার্বত্য গানসু প্রদেশে ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে ১২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
এরও দুই মাসের কম সময় আগে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে তিব্বত ও নেপাল ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। ওই দুর্যোগে অন্তত ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন। এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে আরও বেশি স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানিয়ে আসছে তিব্বত। অঞ্চলটি চীনের সবচেয়ে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর একটি।
তিব্বতে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশে বিধিনিষেধ রয়েছে। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ তথ্যপ্রবাহের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে থাকে। ফলে এ ধরনের দুর্যোগের সময় পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানতে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমই প্রধান উৎস হয়ে ওঠে।