সারাবিশ্ব
শ্রীলঙ্কায় নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান গ্রেপ্তার
১৫ বছর আগের এক নিখোঁজ ও অপহরণ মামলায় শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান অ্যাডমিরাল নিশান্ত উলুগেটেন্নে-কে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির তদন্ত সংস্থা।
সোমবার তাকে আটক করা হয় বলে এএফপি-কে নিশ্চিত করেছেন এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা, যিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।
জানা গেছে, ২০১০ সালে একজন ৪৮ বছর বয়সী ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের পরই উলুগেটেন্নেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সময় তিনি নৌবাহিনীর গোয়েন্দা শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বর্তমানে তিনি রিমান্ডে আছেন এবং বুধবার পর্যন্ত তাকে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে নৌবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর উলুগেটেন্নে কিউবায় শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি সামনে আসে একটি চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে, যেখানে নৌবাহিনীর আরও এক সাবেক প্রধান, অ্যাডমিরাল ওয়াসন্থা করন্নাগোদা সম্পর্কে অনুসন্ধান চলছে।
করন্নাগোদার বিরুদ্ধে তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদী যুদ্ধ চলাকালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে এসব অভিযোগ বারবার উত্থাপিত হয়েছে। ২০২৪ সালের মার্চে যুক্তরাজ্য তাকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে।
তদন্তকারীদের দাবি, ২০০৮ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে কমপক্ষে ১১ জন ধনী পরিবারের পুরুষ নিখোঁজ হন, যাদেরকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করতেই হত্যা করা হয়েছিল। যদিও করন্নাগোদের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের অক্টোবরেই শ্রীলঙ্কা সরকার অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়, তবে আদালতের পূর্ববর্তী নথিপত্র অনুযায়ী, ওই ১১ জন অবৈধভাবে নৌবাহিনীর হেফাজতে নিহত হন। মরদেহগুলোর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
তদন্ত কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, আসলে নিহতের সংখ্যা হতে পারে ঘোষিত সংখ্যার তিনগুণ। নিহতদের কারো সঙ্গেই তামিল বিদ্রোহীদের সম্পৃক্ততা ছিল না; শুধুমাত্র ধনী পরিবারের সদস্য হওয়ায় তারা টার্গেট হয়েছিলেন।
বহুদিন ধরেই শ্রীলঙ্কার সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধকালীন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তামিল বিদ্রোহীদের দমন অভিযানের শেষ দিকে সেনাবাহিনী ব্যাপক সহিংসতা ও নিপীড়নের মাধ্যমে লক্ষাধিক বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে বলে জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়। জাতিসংঘের বিশেষ প্যানেলের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় অন্তত ৪০ হাজার সাধারণ মানুষ প্রাণ হারান।