সারাবিশ্ব

‘আই লাভ মুহাম্মদ’ স্লোগানে উত্তাল ভারত, বিক্ষোভে লাঠিচার্জ ও গ্রেপ্তার


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:২৭ পিএম

‘আই লাভ মুহাম্মদ’ স্লোগানে উত্তাল ভারত, বিক্ষোভে লাঠিচার্জ ও গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

ভারতজুড়ে ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ স্লোগান ঘিরে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ ক্রমেই বিস্তৃত আকার নিচ্ছে। উত্তরপ্রদেশ থেকে শুরু করে কর্ণাটক, গুজরাট ও মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর উত্তরপ্রদেশের বেয়ারেলিতে ইসলামিয়া ময়দানে ব্যাপক জনসমাগম হয়।

স্থানীয় আলেম ও ইত্তেহাদ-ই-মিল্লাত কাউন্সিলের নেতা মাওলানা তৌকীর রাজার ডাকে আয়োজিত হয় এই প্রতিবাদ সমাবেশ। মূলত নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে ভালোবাসার বার্তা ছড়িয়ে দিতে ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ প্রচারণাকে ঘিরেই এই সমাবেশের আয়োজন।

india_protest1_Dhakaprokash.jpg

সমাবেশ চলাকালে পুলিশের কঠোর নজরদারি থাকা সত্ত্বেও ভিড় ক্রমেই বেড়ে যায়। পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ উসকানিমূলক স্লোগান দেয় এবং পরবর্তীতে পাথর নিক্ষেপ করে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় প্রশাসন। সংঘর্ষে ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

বেয়ারেলির আইজি অজয় সাহনি বলেন, "বিক্ষোভের সময় ভিড় থেকে গুলি চালানো হয় ও পাথর ছোড়া হয়। কিছু অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে।"

বেয়ারেলির পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের মৌ ও বাঘপতেও নামাজের পর বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মৌ-তে পুলিশের বাধা পেয়ে বিক্ষোভকারীরা পাথর ছুড়লে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। অন্যদিকে, বাঘপতে অনুমতি ছাড়া শোভাযাত্রা বের করার অভিযোগে পুলিশ বাধা দিলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে।

india_protest2_Dhakaprokash.jpg

বিতর্কের শুরু হয় ৪ সেপ্টেম্বর কানপুরে, ঈদ-ই-মিলাদুন্নবীর শোভাযাত্রায় একটি তাঁবুতে ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ লেখা পোস্টার টাঙানোকে কেন্দ্র করে। পুলিশ সেই পোস্টার সরিয়ে ফেললে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়। এরপর কানপুর পুলিশ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে ও ১৫ জনের বিরুদ্ধে অজ্ঞাতনামা মামলা দায়ের করে।

হিন্দু সংগঠনগুলোর দাবি, মিশ্র এলাকায় উসকানিমূলক উদ্দেশ্যে এই পোস্টার লাগানো হয়েছে। তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তোলে। অন্যদিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের অভিযোগ, শুধু নবীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করাতেই তাদের টার্গেট করা হচ্ছে।

বিতর্কের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘#ILoveMuhammad’ হ্যাশট্যাগটি ব্যাপকভাবে ট্রেন্ড করতে থাকে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বারাণসিতে ‘আই লাভ মহাদেব’ স্লোগান দিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা প্রচারণা শুরু করে। শঙ্করাচার্য নরেন্দ্রানন্দের নেতৃত্বে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে বলা হয়, “আই লাভ মুহাম্মদ আন্দোলনের আড়ালে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র চলছে।”

india_protest3_Dhakaprokash.jpg

প্রসঙ্গটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা চলছে। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব পুলিশের লাঠিচার্জকে সরকারের ব্যর্থতা বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, “সরকার পরিচালিত হওয়া উচিত সম্প্রীতি ও সদিচ্ছার মাধ্যমে, লাঠির মাধ্যমে নয়।”

অন্যদিকে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, “কেউ যদি ‘আই লাভ ইউ’ বলতে পারে, তবে ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ বললে সমস্যা কোথায়?” তিনি একে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সামাজিক বয়কটের অংশ হিসেবেও দেখছেন।

উত্তরপ্রদেশ ছাড়াও মুম্বাইয়ের মালভানি, গুজরাটের গান্ধীনগর, কর্ণাটকের দাভানগেরে, লখনৌ, উনাও, কৌশাম্বী ও মহারাজগঞ্জসহ একাধিক জায়গায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গুজরাটে সংঘর্ষের ঘটনায় ৬০ জনকে আটক করা হয়েছে।