সারাবিশ্ব

হিজাব পরা নারীই একদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন: ওয়েইসি


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম

হিজাব পরা নারীই একদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন: ওয়েইসি
ছবি: সংগৃহীত

'একদিন হিজাব পরা নারীই ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন' এমন মন্তব্য করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা সৃষ্টি করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) সভাপতি আসাদুদ্দিন ওয়েইসি। ভোটের মঞ্চ থেকে এই বক্তব্য দিয়ে তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন ক্ষমতাসীন দল বিজেপির প্রতি।

আগামী ১৫ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে রবিবার রাজ্যের সোলাপুরে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় প্রচারে গিয়ে ওয়েইসি বলেন, বিজেপি যে হিজাবকে ঘৃণা করে, সেই হিজাব পরা নারীই একদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন। ভারতের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে সেই অধিকার দিয়েছে।

ওয়েইসি তার বক্তব্যে বলেন, “নির্বাচন এলেই বলা হচ্ছে—এই মেয়ে মেয়র হবে না, ওই মেয়ে মেয়র হবে না। পাকিস্তানের সংবিধানে লেখা আছে, নির্দিষ্ট একটি ধর্মের মানুষই শুধু প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি হতে পারে। কিন্তু ভারতে বাবাসাহেব আম্বেদকরের রচিত সংবিধান অনুযায়ী, যেকোনো নাগরিক—তিনি হিজাব পরুন বা না পরুন—প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী কিংবা মেয়র হতে পারেন। আমার বিশ্বাস, এমন একদিন আসবে, হয়তো আমরা সে দিন দেখব না, কিন্তু হিজাব পরা নারীই একদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন। ইনশাল্লাহ।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা হয়তো তখন থাকবো না, আমাদের শরীরের হাড়গোড় মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। কিন্তু সেই দিন অবশ্যই আসবে।”

কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ করে ওয়েইসি বলেন, “মুসলিমদের বিরুদ্ধে আপনারা যে ঘৃণা ছড়িয়ে রেখেছেন, ইনশাল্লাহ তায়ালা, এই ঘৃণা বেশি দিন টিকবে না। যারা বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে, তারাই একদিন শেষ হয়ে যাবে। ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়লে তারা বুঝতে পারবে কতটা ঘৃণা তারা মানুষের মনে ঢুকিয়েছিল।”

ওয়েইসির এই বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিজেপি। দলটির সাংসদ অনিল বোন্দে বলেন, “ওয়েইসি দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করছেন এবং অর্ধসত্য তুলে ধরছেন। অনেক মুসলিম নারীই হিজাব প্রথার বিরুদ্ধে। ইরানের নারীরাই এই প্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন। কারণ কেউ পরাধীনতা চায় না।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সংখ্যালঘু ভোটারদের একত্রিত করতেই ওয়েইসি এমন বক্তব্য দিয়েছেন। তবে তার এই মন্তব্য নির্বাচনী রাজনীতিতে ধর্ম, সংবিধান ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।