সারাবিশ্ব
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পর এবার পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর এবার পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রী হরজট সিং বাইসের পদত্যাগ দাবি তুলেছে বিরোধীরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি ও আম আদমি পার্টির মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
দিল্লিতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে টানা এক মাস আন্দোলনের পর সম্প্রতি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ ছাড়েন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এরপরই পাঞ্জাবেও শিক্ষাব্যবস্থা ও নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক নতুন মাত্রা পায়।
ভারতীয় জনতা পার্টির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারী বলেন, নৈতিকতার প্রশ্নে আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালের উচিত পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করা। একই সঙ্গে তিনি জানতে চান, হরজট সিং বাইস কবে পদত্যাগ করবেন।
বিজেপির অভিযোগ, পাঞ্জাব স্কুল শিক্ষা বোর্ডের দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা, শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষা এবং কৃষি উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষাসহ একাধিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার মেধা তালিকায় ভুয়া নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগও তুলেছে দলটি।
একই অভিযোগ তুলে পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং দাবি করেন, গত চার বছরে রাজ্যে অন্তত ছয়টি বড় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে সরকারের জবাবদিহিতা চান তিনি।
তবে বিরোধীদের সব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে দাবি করেছে আম আদমি পার্টি।
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান বলেন, গত সাড়ে চার বছরে রাজ্যে কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি। ভবিষ্যতেও এমন ঘটনা ঠেকাতে সরকার শতভাগ প্রস্তুত বলে তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি আরও জানান, দুটি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা হয়েছিল। খবর পাওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আম আদমি পার্টির নেতা বলতেজ পান্নুও দাবি করেন, একটি ঘটনায় কয়েকজন পরীক্ষার্থী ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহার করতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি।
বলতেজ পান্নুর অভিযোগ, নিজেদের শাসনামলের অনিয়ম আড়াল করতেই বিজেপি ও কংগ্রেস মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে।