সারাবিশ্ব

পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ জনের মৃত্যু


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম

পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ জনের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের পেশোয়ারে একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২৭ জন শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১৯ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, পেশোয়ারের আফ্রিদি আবাদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মোহাম্মদ আসিম এক বিবৃতিতে হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুর্ঘটনার পর আহতদের চিকিৎসা দিতে হাসপাতালটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।

হাসপাতালের মুখপাত্র মোহাম্মদ আসিম এর আগে জানিয়েছিলেন, নিহত শিক্ষার্থীদের সবার বয়স ১৩ বছর বা তার কম। ছাদ ধসে পড়ার ঘটনায় আহত আরও ১৯ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পেশোয়ারের ডেপুটি কমিশনারের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলার সময় হঠাৎ স্কুলটির ছাদ ধসে পড়ে। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। পরে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ শুরু করেন। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকার কথাও জানানো হয়।

পাকিস্তানে ভবন ও ছাদ ধসে হতাহতের ঘটনা নতুন নয়। দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থা, নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণের ব্যবহার এবং ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে যথাযথ মান বজায় না রাখাকে এ ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে গত জুলাই মাসে উমরকোটের কাছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরের দেয়ালের একাংশ ধসে তিন শিশুর মৃত্যু হয়। নিহত শিশুদের বয়স ছিল ৩ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে।

একই মাসে লাহোরের বাঘবানপুরা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে এক শিশু নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হয় আরও অন্তত পাঁচজন।

এ ছাড়া জুন মাসে লাহোরের কাহনা এলাকায় একটি বেসরকারি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশুর মৃত্যু হয়। এর দুই মাসেরও কম সময় আগে ডেরা গাজী খান এলাকায় একটি বেসরকারি স্কুলের শ্রেণিকক্ষের ছাদ ধসে চার শিশু নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছিল।

পাকিস্তানে একের পর এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভবনধসের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে স্কুল ভবন নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথভাবে নিশ্চিত করার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।