সারাবিশ্ব
কলকাতায় দুর্গাপূজা মণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু, আহত ২৫
ভারতের কলকাতায় একটি খ্যাতনামা দুর্গাপূজা মণ্ডপে পদদলিত হয়ে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
কলকাতা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে কলকাতার গিরিশ পার্ক থানা এলাকার চোরবাগানের একটি পূজামণ্ডপের বের হওয়ার গেটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত ও আহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের অনেকেই কলকাতার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে পূজা দেখতে এসেছিলেন।
ঘটনাস্থলের পাশের একটি ভবন থেকে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুণাল ঘোষসহ অনেকে ভিডিওটি শেয়ার করেছেন। ভিডিওতে বেশ কয়েকজনকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় মানুষের আর্তচিৎকারও শোনা যায়।
দুর্ঘটনার পর পুলিশ চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপূজা মণ্ডপটি বন্ধ করে দিয়েছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, কলকাতার আরও তিনটি বড় ও খ্যাতনামা পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া ব্যাপক ভিড়ের কারণে আরেকটি বড় পূজার আয়োজকেরাও দর্শনার্থীদের ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ঘটনায় সহায়তা দিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে একটি টোল ফ্রি হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে যান। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীনের পূজামণ্ডপে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়েছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে সরু রাস্তা ও গলির মধ্যে অবস্থিত মণ্ডপে আশ্রয় নিতে ছুটে যান অনেক দর্শনার্থী।
এ সময় মণ্ডপের ভেতরে থাকা দর্শনার্থীরা বাইরে বের হতে পারছিলেন না। অন্যদিকে, বৃষ্টির মধ্যে বাইরে আটকে পড়া লোকজন ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এতে ধাক্কাধাক্কি ও হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে অস্থায়ী সিঁড়ির ওপর মানুষ একে অপরের গায়ের ওপর পড়ে যান।
মণ্ডপে লোহার কাঠামোর নিচে দুর্গাপ্রতিমা রাখা ছিল। ওই কাঠামোর কোনো অংশ ভেঙে পড়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পুরো দুর্ঘটনাটি পাঁচ থেকে সাত মিনিটের মধ্যে ঘটে থাকতে পারে।
এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের নিকটাত্মীয়দের প্রত্যেককে দুই লাখ রুপি এবং আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে এ সহায়তা দেওয়া হবে।