সারাবিশ্ব
ভারতের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের বিলে সম্মতি দিলেন ট্রাম্প
রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সম্মতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
প্রস্তাবিত এক বিলে সমর্থন জানিয়ে তিনি চীন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিতে পারেন হোয়াইট হাউজকে। এমন তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের সিনেটর গ্রাহাম জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে একটি ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর তিনি এই দ্বিদলীয় বিলের অনুমোদন বা ‘গ্রিনলাইট’ পেয়েছেন। ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালের সঙ্গে যৌথভাবে প্রণীত বিলটির নাম ‘স্যানকশনিং রাশিয়া অ্যাক্ট’। বিলটি পাস হলে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর আমদানির ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের আইনগত ক্ষমতা পাবে মার্কিন প্রশাসন।
গ্রাহাম এক বিবৃতিতে বলেন, “এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সেই দেশগুলোকে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ করে দেবে, যারা সস্তা রুশ তেল কিনে ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে অর্থায়ন করছে।” তিনি আরও বলেন, “চীন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর ওপর এই বিল যুক্তরাষ্ট্রকে বিপুল চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা দেবে, যাতে তারা রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করে—যে তেল ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পুতিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চালাতে ব্যবহৃত হচ্ছে।”
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়ার তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হিসেবে রয়ে গেছে চীন ও ভারত। জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার’-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত নভেম্বর মাসে রাশিয়ার মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় অর্ধেক কিনেছে চীন। একই সময়ে ভারতের অংশ ছিল প্রায় ৩৮ শতাংশ। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ব্রাজিলও ভর্তুকিযুক্ত রুশ তেল কেনা বাড়ালেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেই আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনা চলছে। মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনের জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা সংক্রান্ত ইউরোপীয় প্রস্তাবগুলোর প্রতি সমর্থন জানায়। এসব প্রস্তাবের মধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী অস্ত্রবিরতি পর্যবেক্ষণ এবং ইউরোপের নেতৃত্বে একটি বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে রাশিয়া ইতোমধ্যে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইউক্রেনে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সেনা মোতায়েন তারা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। এ বিষয়ে মস্কোর সমর্থনের কোনো ইঙ্গিত এখনও পাওয়া যায়নি।
সিনেটর গ্রাহাম বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের বর্তমান বাস্তবতায় এই বিল অত্যন্ত সময়োপযোগী। তার ভাষায়, “শান্তির স্বার্থে ইউক্রেন ছাড় দিচ্ছে, অথচ পুতিন শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে যাচ্ছেন এবং নিরীহ মানুষের হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রেখেছেন।”