সারাবিশ্ব
ম্যাপে আটলান্টিকের নাম বদলে নিজের নাম বসাতে গুগল সিইওকে ট্রাম্পের ফোন
আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তন করে নিজের নাম কিংবা আমেরিকার নামে রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার সেই প্রস্তাবে সরাসরি সম্মতি দেননি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাই। দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় এক রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প নিজেই এ ঘটনার কথা জানান।
সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব কি না, তা জানতে তিনি সরাসরি গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাইকে ফোন করেছিলেন।
বক্তব্যে ট্রাম্প জানান, আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরের প্রতি তার বিশেষ পছন্দ রয়েছে। অন্য কোনো জলাশয়ের সঙ্গে নিজের নাম কিংবা আমেরিকার নাম যুক্ত করার আগ্রহ তার ছিল না। এ কারণেই আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে তিনি ভাবছিলেন।
এর আগে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ রেখেছিলেন ট্রাম্প। কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ চলাকালে ‘লেক অন্টারিও’র নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার জন্যও মার্কিন কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়ে প্রশাসনিক আদেশে সই করেছিলেন তিনি।
গুগল ম্যাপস যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য এসব নাম পরিবর্তন আংশিকভাবে গ্রহণ করেছিল। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
তবে আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব শুনে সুন্দর পিচাই তা প্রত্যাখ্যান করেন বলে জানান ট্রাম্প। পিচাইয়ের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে তিনি বলেন, “তিনি আমাকে সরাসরি জানান, না, স্যার! এবার আমি এটি করতে পারব না। মহাসাগরের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন, কারণ এটি অনেকগুলো দেশের ভৌগোলিক সীমানাজুড়ে বিস্তৃত। দয়া করে আমাদের এটি করতে বলবেন না।”
গুগল সিইওর এমন অবস্থানের পর ট্রাম্প জানান, তিনি সম্ভবত এই দাবি থেকে সরে আসছেন। আটলান্টিক মহাসাগরের নাম আগের মতোই থাকা উচিত বলে মনে করছেন তিনি।
এর আগে নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের বিতর্কিত প্রস্তাব গ্রহণ করায় মেক্সিকো ও কানাডাসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার মুখে পড়েছিল গুগল। বর্তমানে গুগল ম্যাপসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীরা পরিবর্তিত নাম দেখতে পান। তবে অনুসন্ধানের ফলাফলে মূল নামের পাশাপাশি বন্ধনীর মধ্যে নতুন নামও দেখানো হয়।
অন্যদিকে, মেক্সিকো ও কানাডার ব্যবহারকারীরা এখনো মানচিত্রে আগের নামগুলোই দেখতে পান। এ বিষয়ে গুগলের প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।