আইন আদালত

হাসিনাসহ আসামিদের শাস্তি না হলে শহীদ-আহতদের প্রতি অবিচার হবে: আসাদুজ্জামান


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৩:২৫ পিএম

হাসিনাসহ আসামিদের শাস্তি না হলে শহীদ-আহতদের প্রতি অবিচার হবে: আসাদুজ্জামান
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই–আগস্টের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের মামলায় সাবেক স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিচারকাজ শেষ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার যুক্তিতর্ক ও সমাপনী বক্তব্যে অংশ নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “এ হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়। শেখ হাসিনাসহ আসামিদের শাস্তি না হলে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের প্রতি অবিচার করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় শক্তিকে ব্যবহার করে নিরস্ত্র মানুষ হত্যার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। মানবতাবিরোধী এই অপরাধের বিচার ইতিহাসে নজির রাখবে।

এর আগে বুধবার (২২ অক্টোবর) পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) মো. আমির হোসেন যুক্তিতর্কে দাবি করেন, প্রসিকিউশন তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। তিনি বলেন, “আন্দোলন দমনে শেখ হাসিনা মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেননি। দায় থেকে রেহাই পেতেই সাবেক আইজিপি মামুন রাজসাক্ষীর পথ বেছে নিয়েছেন।”

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট এই মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয় এবং ৬ কার্যদিবসে প্রসিকিউশন তাদের যুক্তি উপস্থাপন সম্পন্ন করে। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের পক্ষে তিন দিনের যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়, যা শেষ হয় গত বুধবার।

মামলায় মোট ৮৪ জন সাক্ষী থাকলেও ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন ৫৪ জন। তাদের সবাইকে জেরা করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন।

প্রসিকিউশন জানায়, মামলার প্রমাণ ও সাক্ষ্য অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা আশা করছেন, রায়ে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা-মৃত্যুদণ্ড-ঘোষণা করা হবে।

গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার আদেশ দেন। মামলার অভিযোগপত্রটি ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার, যার মধ্যে ২,০১৮ পৃষ্ঠা তথ্যসূত্র, ৪,০০৫ পৃষ্ঠা দালিলিক প্রমাণ ও ২,৭২৪ পৃষ্ঠায় শহীদদের তালিকা সংযুক্ত রয়েছে।

এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন গত ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।