জাতীয়

ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করলেন রাষ্ট্রপতি


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৫, ০৮:৪৭ এএম

ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করলেন রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

দেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে ‘ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮’ সংশোধন করে নতুন একটি অধ্যাদেশ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি ‘The Code of Criminal Procedure (Amendment) Ordinance, 2025’ নামে এই অধ্যাদেশ জারি করেছেন। সংসদ অধিবেশন না থাকায় সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে এটি জারি করা হয়।

নতুন ধারায় যা আছে:

সংশোধিত আইনে যুক্ত হওয়া 173A ধারায় "Interim investigation report, etc." (অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদন ইত্যাদি) শিরোনামে নতুন বিধান আনা হয়েছে। এর মূল বিষয়গুলো হলো:

১. অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন তলব: এখন থেকে মামলার তদন্ত চলাকালে যেকোনো পর্যায়ে পুলিশ কমিশনার, জেলার পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট বা সমমর্যাদার কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে (Investigating Officer) মামলার অগ্রগতির বিষয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিতে পারবেন।

২. অভিযুক্তকে অব্যাহতি: অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে যদি কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে সেই প্রতিবেদন আদালতে (ম্যাজিস্ট্রেট বা ট্রাইব্যুনাল) দাখিল করা যাবে। আদালত ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সন্তুষ্ট হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মামলা থেকে অব্যাহতি (Discharge) দিতে পারবেন। এর ফলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা না করেই নিরপরাধ ব্যক্তিরা হয়রানি থেকে মুক্তি পাবেন। তবে, অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত থাকবে।

৩. পুনরায় অন্তর্ভুক্তির সুযোগ: অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তি অব্যাহতি পেলেও সেটি চূড়ান্ত নয়। যদি তদন্ত শেষে সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে চূড়ান্ত পুলিশ প্রতিবেদনে (ধারা ১৭৩ অনুযায়ী) তার নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে কোনো বাধা থাকবে না।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নতুন বিধান বিচার প্রক্রিয়ায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। এর ফলে তদন্তাধীন মামলায় দীর্ঘ সময় ধরে নিরপরাধ ব্যক্তিদের জেল হাজতে থাকা বা হয়রানির শিকার হওয়ার প্রবণতা কমবে। একই সাথে এটি বিচার ব্যবস্থার উপর চাপ কমাতেও সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অধ্যাদেশটি জারির তারিখ থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে।