জাতীয়

নিবন্ধন আবেদনে ৬ ত্রুটি, এনসিপিকে ইসির সংশোধনী চিঠি


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৫, ১২:০৯ পিএম

নিবন্ধন আবেদনে ৬ ত্রুটি, এনসিপিকে ইসির সংশোধনী চিঠি
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) যে আবেদন করেছে, তা পর্যালোচনায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি ও ঘাটতি শনাক্ত করেছে ইসি। এসব সংশোধনের নির্দেশ দিয়ে আগামী ৩ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

ইসির পক্ষ থেকে গত বৃহস্পতিবার এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বরাবর পাঠানো চিঠিতে এসব ত্রুটির বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, নিবন্ধনের জন্য আবেদিত দলটির বিভিন্ন নথিপত্র ও দলীয় কাঠামো সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অনুপস্থিত কিংবা অসম্পূর্ণ রয়েছে, যা সংশোধনপূর্বক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা না দিলে নিবন্ধনের প্রক্রিয়া ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

ইসির পর্যবেক্ষণে যে ছয়টি বড় ত্রুটি উঠে এসেছে:

১. জেলা ও উপজেলা কার্যালয়ের তথ্য ঘাটতি: দলের সব কার্যকর জেলা দপ্তরের তালিকা দেওয়া হয়নি। এমনকি ঢাকা ও সিলেট জেলা দপ্তরের ভাড়া চুক্তিপত্রে এনসিপির নামই উল্লেখ নেই। একইভাবে উপজেলার ক্ষেত্রেও তথ্য অসম্পূর্ণ। অন্তত ২৫টি উপজেলা বা থানায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক (২০০ জন) ভোটার সদস্য পাওয়া যায়নি।

২. তহবিল সংক্রান্ত ঘাটতি: দলীয় তহবিলের পরিমাণ ও উৎস সংক্রান্ত নির্দিষ্ট বিবরণ নেই। আবেদনের সঙ্গে দেওয়া আয়-ব্যয়ের কাগজেও তহবিলের নির্দিষ্ট অঙ্ক উল্লেখ করা হয়নি।

৩. কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তের স্বাক্ষর নেই: নিবন্ধন বিষয়ক দলীয় সিদ্ধান্তের অনুলিপির শেষ পাতায় নেতাদের স্বাক্ষর অনুপস্থিত।

৪. গঠনতন্ত্রে মনোনয়ন প্রক্রিয়া স্পষ্ট নয়: গঠনতন্ত্রে উল্লেখ নেই যে, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সমন্বয়ে প্রস্তুত প্যানেল থেকেই প্রার্থী মনোনয়ন দেবে কেন্দ্রীয় সংসদীয় বোর্ড।

৫. আইনি নির্ধারিত প্রত্যয়নপত্র অনুপস্থিত: দলের কোন ব্যক্তি বা কার্যক্রম যেন সংবিধানবিরোধী নয়—এ বিষয়ে ‘কোলাবোরেটর অর্ডার ১৯৭২’ এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনাল) অ্যাক্ট ১৯৭২’-এর অধীনে দণ্ডিত কারও উপস্থিতি নেই—এ সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র সংযুক্ত করা হয়নি।

৬. ভাড়াচুক্তিপত্রে তথ্যের অস্পষ্টতা: কিশোরগঞ্জের ইটনা ও ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা কার্যালয়ের ভাড়ার চুক্তিপত্রে দলের নাম ও ঠিকানা উল্লেখ নেই, যা দলীয় কার্যক্রমের স্বচ্ছতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “আমরা ইসির চিঠি পেয়েছি। যেখানে যেখানে ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পূরণ করব। ইসির চাহিদা অনুযায়ী তথ্য ও দলিলপত্র আমরা প্রস্তুত করছি।”

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন নিবন্ধনের জন্য এবার ১৪৪টি রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছে। নিবন্ধনের জন্য দলগুলোকে আইন ও বিধিমালার নির্ধারিত বেশ কয়েকটি কঠিন শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে দলগুলোর কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে তদন্তের আওতায় আনা হয়।

এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন এনসিপির পাশাপাশি আরও কয়েকটি দলকে চিঠি দিয়েছে, যাদের আবেদনেও নানা ঘাটতি ধরা পড়েছে।

উল্লেখ্য, এনসিপি সাম্প্রতিক সময়ে নানা রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আলোচনার মাধ্যমে নিজেকে একটি সম্ভাবনাময় উদীয়মান দল হিসেবে তুলে ধরছে। তবে নিবন্ধন না পেলে তারা আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণে আইনি সীমাবদ্ধতায় পড়বে। তাই ইসির দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই ঘাটতি পূরণ দলটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।