জাতীয়
শর্ত পূরণে ঘাটতি থাকলে বাতিল হবে ১৪৪ দলের নিবন্ধন আবেদন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে ১৪৪টি নতুন রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিল। তবে প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে দেখা গেছে, কোনো দলই শতভাগ শর্ত পূরণ করতে পারেনি।
ফলে কমিশন সব দলকে ১৫ দিনের সময় দিয়ে ঘাটতি পূরণের নির্দেশ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য ও কাগজপত্রের ঘাটতি পূরণ না করলে সংশ্লিষ্ট দলের আবেদন বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছে ইসি।
ইসির সিনিয়র সচিব মো. আখতার হামিদ বলেন, “তারা যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য পূরণ করতে পারে, তাহলে তা কমিশনে উপস্থাপন করা হবে। তবে আইন অনুযায়ী ১৫ দিনের বেশি সময় দেওয়ার সুযোগ নেই। অতএব, কমিশন তখন আইনগত ব্যবস্থাই নেবে।”
আইন অনুযায়ী, কোনো দল প্রাথমিক আবেদনপত্রে ত্রুটি বা ঘাটতি রাখলে কমিশন ১৫ দিনের সময় দিয়ে তাদের সংশোধনের সুযোগ দেয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তথ্য জমা না দিলে ওই আবেদন বাতিল বলে গণ্য হয়।
ইসি সূত্র জানায়, নিবন্ধনের আবেদনকারী ১৪৪টি দলের কেউই পুরোপুরি শর্ত পূরণ করেনি। অনেক দলের পক্ষ থেকে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের কমিটির তালিকা, দলীয় অফিসের চুক্তিপত্র, ভোটারের সমর্থন, অর্থের উৎস, নারীদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যথাযথভাবে জমা দেওয়া হয়নি।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এনসিপির আবেদনপত্রে জেলা দফতরের ঠিকানা ও চুক্তিপত্রে দলের নাম নেই, ২৫টি উপজেলায় ২০০ ভোটারের সমর্থনের ঘাটতি রয়েছে, ফান্ডের উৎস ও পরিমাণ স্পষ্ট নয় এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর নেই। অন্যদিকে, আম জনগণ পার্টির আবেদনপত্রে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের এনআইডি নম্বর নেই, ১৯ জেলায় ভোটার সমর্থনের ঘাটতি রয়েছে, গঠনতন্ত্রে নারী সংরক্ষণের বিধান নেই এবং দণ্ডিত ব্যক্তির অযোগ্যতা সংক্রান্ত ঘোষণাও অনুপস্থিত।
আবার আম জনতার দলের আবেদনে দুই-তৃতীয়াংশ জেলার দফতরের দলিল ও ভাড়ার রসিদ নেই, ১০০টির মতো উপজেলায় কমিটি বা দফতরের কোনো প্রমাণপত্র দেওয়া হয়নি এবং ব্যাংক হিসাব বা তহবিলের বিবরণীও জমা দেওয়া হয়নি।
আইন অনুযায়ী, নিবন্ধনের জন্য একটি দলের অবশ্যই একটি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি, দেশের এক-তৃতীয়াংশ জেলায় ও ১০০টি উপজেলায় কার্যকর কমিটি এবং প্রতিটি কমিটিতে কমপক্ষে ২০০ ভোটারের সমর্থন থাকতে হয়। এছাড়া গঠনতন্ত্রে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্যপদ সংরক্ষণ, তহবিলের উৎস ও পরিমাণের বিবরণ, নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারের নিয়ম, সদস্য নির্বাচনের বিধানসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে থাকতে হয়।
বর্তমানে দেশে ৫১টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত রয়েছে। ২০০৮ সালে চালু হওয়া দল নিবন্ধন প্রক্রিয়ার আওতায় এ পর্যন্ত ৫৫টি দল নিবন্ধন পেলেও শর্ত পূরণে ব্যর্থতা ও আদালতের নির্দেশে এর মধ্যে ৫টি দলের নিবন্ধন বাতিল হয়। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও জাগপা আদালতের আদেশে নিবন্ধন ফিরে পেলেও নির্বাচন কমিশন শুধু জামায়াতকে তালিকাভুক্ত করেছে।
নতুন দলগুলোর নিবন্ধন চূড়ান্ত করার আগে ইসি সরেজমিন তদন্ত ও শুনানি শেষে সিদ্ধান্ত দেবে। তবে ১৫ দিনের মধ্যে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে এসব দলের নিবন্ধন আবেদন আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলে সতর্ক করেছে কমিশন।