জাতীয়

আওয়ামী লীগ কর্মীদের প্রশিক্ষণের অভিযোগ, মেজর সাদিক সেনাবাহিনীর হেফাজতে


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৫, ০৭:৫৫ পিএম

আওয়ামী লীগ কর্মীদের প্রশিক্ষণের অভিযোগ, মেজর সাদিক সেনাবাহিনীর হেফাজতে
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম-উদ-দৌলা (ইনসটে মেজর সাদিক)। ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা মেজর সাদিকের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনার প্রেক্ষিতে তাকে সেনাবাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে সেনাসদর।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেস ‘এ’-তে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সেনাসদরের মিলিটারি অপারেশনস ডিরেক্টর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম-উদ-দৌলা।

তিনি বলেন, "মেজর সাদিকের বিষয়টি সেনাবাহিনীর নজরে এসেছে। অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তিতে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং একটি তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তে যদি প্রমাণ মেলে, তাহলে সেনাবাহিনীর বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

ব্রিফিংয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজিম। তিনি জানান, “সেখানে ইউপিডিএফ, জেএসএসসহ কয়েকটি গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্য ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা প্রায়ই তৈরি হয়। সেনাবাহিনী সেখানে সক্রিয় রয়েছে, তবে এ ধরনের সংকট সামলাতে বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশসহ সব পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)-এর সঙ্গে আরাকান আর্মির যোগসূত্র নতুন কিছু নয়। অস্ত্র সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ ও গোষ্ঠীগত সংহতি তাদের মধ্যে বিদ্যমান। “কেএনএফ এখন বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে, সেনাবাহিনীর চলমান অভিযানে আমরা আশাবাদী, এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে নির্মূল করা সম্ভব।”

গোপালগঞ্জে এনসিপির সভা কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতার বিষয়েও সেনাবাহিনীর অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। বলেন, “এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা, তবে কেন বলপ্রয়োগ করতে হয়েছিল তা নির্ধারণে বিচারপতির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

তিনি বলেন, “কোনো দল বা ব্যক্তি বিবেচনায় নয়, বরং যাদের জীবন হুমকির মুখে পড়েছিল তাদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই সেনাবাহিনী পদক্ষেপ নিয়েছে। জীবন রক্ষা আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল।”