জাতীয়

সংসদের উচ্চকক্ষ হবে ১০০ আসনের, পিআর পদ্ধতিতে সদস্য মনোনয়ন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৫, ০৮:৫১ পিএম

সংসদের উচ্চকক্ষ হবে ১০০ আসনের, পিআর পদ্ধতিতে সদস্য মনোনয়ন
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের জন্য একটি নতুন উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাবে বড় অগ্রগতি হয়েছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই উচ্চকক্ষে থাকবে মোট ১০০টি আসন, যেখানে সদস্যরা মনোনীত হবেন সংখ্যানুপাতিক (Proportional Representation – PR) পদ্ধতিতে। অর্থাৎ, জাতীয় নির্বাচনে দলগুলো যে পরিমাণ ভোট পাবে, সেই অনুপাতে তারা উচ্চকক্ষে সদস্য মনোনয়ন দিতে পারবে।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চলমান সংলাপের ২৩তম দিনে এই সিদ্ধান্ত জানায় কমিশন। আজ ছিল দীর্ঘ আলোচনার শেষ পর্ব।

কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, আলোচনা শেষে এখন একটি চূড়ান্ত ঐকমত্য সনদ প্রস্তুতের কাজ শুরু হবে, যা দলগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে এবং স্বাক্ষরের জন্য একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।

তবে এই প্রস্তাবে একমত হয়নি বিএনপি ও তাদের সমমনা জোটগুলো। তারা উচ্চকক্ষের সদস্য মনোনয়ন চায় সংসদের আসনভিত্তিক। তাদের যুক্তি, ভোটের অনুপাতে নয়, সংসদে প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতেই উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণ হওয়া উচিত।

বিপরীতে, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দল কমিশনের প্রস্তাবিত সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিকে সমর্থন জানিয়েছে। ফলে মতভেদ থাকা অবস্থায় বিষয়টি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয় এবং কমিশন ভোটের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষে সদস্য মনোনয়নের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে।

কমিশনের খসড়া অনুযায়ী, উচ্চকক্ষে নিজস্ব আইন প্রণয়নের ক্ষমতা থাকবে না। তবে নিম্নকক্ষে পাস হওয়া প্রায় সব ধরনের বিল (অর্থবিল ছাড়া) উচ্চকক্ষে উপস্থাপন করতে হবে। উচ্চকক্ষ একটি বিল স্থায়ীভাবে আটকে রাখতে পারবে না। এক মাসের মধ্যে মতামত না জানালে ধরে নেওয়া হবে যে, বিলটি উচ্চকক্ষে অনুমোদিত।

যদি উচ্চকক্ষ কোনো বিল প্রত্যাখ্যান করে, তবে তা সংশোধনের সুপারিশসহ নিম্নকক্ষে ফেরত পাঠাতে হবে। নিম্নকক্ষ চাইলে সেই সুপারিশ আংশিক বা পুরোপুরি গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করতে পারবে। তারপর সংশোধিত বিল রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাবকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাসদ এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। তাদের মতে, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় একটি উচ্চকক্ষের প্রয়োজন নেই; এটি বরং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও প্রশাসনিক জটিলতা বাড়াবে।

আজকের বৈঠকে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, সিপিবি, ইসলামী আন্দোলন, গণসংহতি আন্দোলনসহ মোট ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি অংশ নেন। বৈঠকটি পরিচালনা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান ও আইয়ুব মিয়া।

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনার পরবর্তী ধাপে চূড়ান্ত ঐকমত্য সনদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।