জাতীয়

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন চেয়ে তহবিল সংগ্রহে জোর


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৫, ১১:১৫ এএম

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন চেয়ে তহবিল সংগ্রহে জোর
ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আগামী ২৪ থেকে ২৬ আগস্ট কক্সবাজারে শুরু হচ্ছে স্টেকহোল্ডার সংলাপ। এতে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা সংস্থা ছাড়াও ভারত, মালয়েশিয়াসহ আঞ্চলিক শক্তিধর দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি ঢাকাস্থ কয়েকটি দূতাবাসকেও অংশগ্রহণের জন্য পত্র পাঠিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ সংলাপকে ৩০ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের প্রস্তুতিমূলক ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২৪ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তারা নিজেদের দাবি ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন। ২৫ আগস্ট শুরু হবে মূল অধিবেশন, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস। পাশাপাশি বক্তব্য রাখবেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, রোহিঙ্গাবিষয়ক বিশেষ দূত এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টারা। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও বিভিন্ন সংস্থা মানবিক সহায়তা বিষয়ক সেশনে অংশ নেবে। ২৬ আগস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনেরও কর্মসূচি রয়েছে।

এই সংলাপে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি হলো রোহিঙ্গাদের নিজস্ব কণ্ঠস্বরকে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরা। প্রথম দিন থেকেই তারা তাদের অভিজ্ঞতা, চাহিদা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রকাশ করবে। সরকার মনে করছে, রোহিঙ্গাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করলে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানো সম্ভব হবে।

যদিও আলোচনার মূল বিষয় প্রত্যাবাসন, তবে মিয়ানমারের সংঘাতময় পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তা এখনো অনিশ্চিত। বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হলেও কার্যকর কোনো রূপরেখা তৈরি হয়নি। রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, নাগরিক অধিকার নিশ্চিত না হওয়া এবং আন্তর্জাতিক চাপের অভাবে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম অগ্রসর হচ্ছে না।

সংকটের শুরুর দিকে প্রত্যাবাসন ছিল মুখ্য আলোচনার বিষয়। তবে এখন ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। জাতিসংঘ ও এনজিওগুলো সতর্ক করেছে, অর্থের অভাবে মানবিক সহায়তা ব্যাহত হতে পারে। সরকার স্পষ্ট করেছে যে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নাগরিক নয়, তাদের অবশ্যই নিজ দেশে ফিরতে হবে। তবে আপাতত সমাধান না আসায় মানবিক সহায়তার জন্য জরুরি তহবিল সংগ্রহ এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।