জাতীয়

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের প্রেস সেক্রেটারি মাহফুজের টেন্ডার কমিশন সংক্রান্ত অডিও ফাঁস


নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৫, ১১:৩৯ এএম

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের প্রেস সেক্রেটারি মাহফুজের টেন্ডার কমিশন সংক্রান্ত অডিও ফাঁস
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের প্রেস সেক্রেটারি মাহফুজ। ছবি: সংগৃহীত

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের প্রেস সেক্রেটারি মাহফুজ আলমকে ঘিরে টেন্ডার কমিশন সংক্রান্ত অডিও ফাঁসের ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ফাঁস হওয়া কথোপকথনে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কমিশন, ফাইল আটকে রাখা, নোয়া (চুক্তিপত্র) ঝুলিয়ে রাখা এবং প্রকল্প অনুমোদনের বিনিময়ে টাকা নেওয়ার মতো সংবেদনশীল বিষয় উঠে এসেছে।

অডিও ফাঁসের বিষয়টি প্রকাশ করেন প্রবাসী সাংবাদিক জওয়াদ নির্জর। তিনি জানান, মাহফুজ আলমের সিডিআর (কল লিস্ট) বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখা যায়, তিনি নিয়মিত দুবাইয়ের বিভিন্ন রিয়েল এস্টেট ও বিনিয়োগ কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এর আগে তার দুর্নীতি ও অস্বচ্ছ লেনদেন সংক্রান্ত আরও কিছু অডিও ফাঁস হয়েছিল, যা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

 

ফাঁস হওয়া অডিওতে শোনা যায়, ঠিকাদারের সঙ্গে আলাপে মাহফুজ আলম সচিবের মাধ্যমে ফাইল প্রসেসিং, উপদেষ্টার সই, কমিশনের হার নির্ধারণসহ নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছেন। তিনি বলেন— “আমি তো সচিবকে নাম্বার দিয়ে রেখেছি, যেন এই চারটি ফাইল দ্রুত হয়ে যায়। কালকে উপদেষ্টা মহোদয়কে দিয়ে সাইন করাবো। এর পর চিফ ইঞ্জিনিয়ারকে তিনি ডাকবেন। কমিশন অনুযায়ী কাজ হবে। প্রথমে ৫০% দিয়ে দেবে, তারপর বাকি টাকা সিসিটিভি পাশ হওয়ার পর।”

ঠিকাদারের প্রান্ত থেকে তাকে বলতে শোনা যায়, “না না, নোয়া (চুক্তিপত্র) পর্যন্ত যাওয়া যাবে না। পিডি-চিফ ইঞ্জিনিয়ার ওরা মেইনটেইন করুক।”

অন্য এক পর্যায়ে মাহফুজ আলম বলেন, “কাজ কনফার্ম করলে ৩% কমিশন হবে। কক্সবাজারে ডিপিডিসির কিছু কাজ চলছে ৬% কমিশনে। এগুলো সব সময় মিডলম্যানের মাধ্যমে হয়। আমি টেক্সট ও কল রেকর্ড দেখাবো, কখন সচিবকে পাঠিয়েছি। এসব যদি বলে চিফ ইঞ্জিনিয়ার করছে, তাহলে একেবারেই ভুল।”

অন্য আরেকটি অডিওতে আরও গুরুতর অভিযোগ শোনা যায়। সেখানে মাহফুজকে বলতে শোনা যায়, “আমি নোয়াটা ঝুলিয়ে রাখব, কনফার্মেশন দিলে পরে এগোবো। দুইটা ১.৫ এর জায়গায় যদি অন্য কিছু বলেন তাহলে সমস্যা হবে। এখন যেটা হচ্ছে, চুক্তি ২.৫ শতাংশে করতে হবে।”

এমনকি আলোচনায় শোনা যায়, কীভাবে বড় অঙ্কের টাকা হাতবদল হচ্ছে এবং কার মাধ্যমে হচ্ছে। এক পর্যায়ে ঠিকাদার বলেন, “ওরা এখানে ভয় পাবে না, কিছু আটকাবে না। শুধু আপনার সঙ্গে কাজ করব।”

অডিওর বিভিন্ন অংশে স্পষ্টভাবে টেন্ডার অনুমোদন, কমিশন ভাগাভাগি এবং প্রকল্প আটকে রাখার মতো কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সমালোচকরা বলছেন, এটি বড় ধরনের দুর্নীতির প্রমাণ। অন্যদিকে মাহফুজ আলম ঘনিষ্ঠ মহল দাবি করছে, এসব অডিও এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দিয়ে বানানো। তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—কোনও পক্ষ যদি নির্দোষ থাকে, তবে কেন প্রতিবার টেন্ডার প্রসেসিং ঘিরে তার নাম উঠে আসে?

এই অডিও ফাঁসকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই বলছেন, মাহফুজ আলমের অডিওসহ বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।