জাতীয়

আসন সীমানা নিয়ে আন্দোলন করলে লাভ হবে না: ইসি আনোয়ারুল


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:৩০ পিএম

আসন সীমানা নিয়ে আন্দোলন করলে লাভ হবে না: ইসি আনোয়ারুল
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। ছবি: সংগৃহীত

সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে চলমান আন্দোলন ও প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, আইন অনুযায়ী সীমানার চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে আদালত বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। পাশাপাশি সীমানা নিয়ে বিক্ষোভ-আন্দোলন করেও "কোনো লাভ হবে না" বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

গত বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশন দেশের ৩০০টি আসনের চূড়ান্ত সীমানা তালিকা প্রকাশ করে। এতে প্রায় ৫০টি আসনের সীমানায় পরিবর্তন আনা হয়। গাজীপুরে একটি আসন বেড়ে ছয়টি হয়েছে, আর বাগেরহাটে একটি কমে আসন দাঁড়িয়েছে তিনটিতে। এ নিয়ে গাজীপুরে আনন্দ মিছিল হলেও বাগেরহাটসহ কিছু এলাকায় দেখা দিয়েছে অসন্তোষ ও বিক্ষোভ।

এ বিষয়ে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “সীমানা নির্ধারণে কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করেছে। প্রাথমিক খসড়া তৈরির পর আপত্তি গ্রহণ ও শুনানি করে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এখন আর কোনো আপিল বা আইনি চ্যালেঞ্জের সুযোগ নেই।”

তিনি আরও বলেন, “আইনের ভাষায় বললে- আন্দোলন বা বিক্ষোভ করে লাভ নেই। আমরা আইন মেনে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও যৌক্তিকতা অনুসরণ করে কাজটি করেছি।”

আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সীমানা নির্ধারণে ২০২২ সালের আদমশুমারি, ভোটার সংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রশাসনিক কাঠামো—সবকিছু বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

“কোথাও কেবল প্রশাসনিক সীমা ধরলে সমস্যা হয়, আবার কেবল ভৌগোলিক সীমা ধরলেও সমস্যা হয়। তাই একটি ভারসাম্য রক্ষা করে কাজ করা হয়েছে,”—বলেন তিনি।

তিনি জানান, জাতীয় গড় ভোটার সংখ্যা ধরা হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার। গাজীপুরে এই গড় ছাড়িয়ে যাওয়ায় আসন বাড়ানো হয়েছে, আর বাগেরহাটে গড়ের চেয়ে অনেক কম থাকায় একটি আসন বাদ পড়েছে।

বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “কারা আন্দোলন করছে, তারা কী বলছে আমরা এখনো জানি না। কিন্তু সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আন্দোলন করে বাস্তবিক অর্থে কোনো সুফল পাওয়া যাবে না।”

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হয়েছে, এবং এখন নির্বাচন পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে।