জাতীয়
গাজার খুব কাছাকাছি চলে এসেছি: ভিডিও বার্তায় শহিদুল আলম
গাজার দিকে এগিয়ে চলেছে সমুদ্রপথে ত্রাণ নিয়ে যাওয়া নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’। এই বহরের একটি জাহাজে আছেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান আলোকচিত্রী ও দৃক গ্যালারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল আলম। তিনি জানিয়েছেন, তারা এখন গাজার খুব কাছাকাছি।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রাতে দুটি ভিডিও বার্তায় নিজের বর্তমান অবস্থা ও জাহাজের পরিস্থিতি জানিয়েছেন শহিদুল।
দ্বিতীয় ভিডিওটি রাত ১০টার দিকে জাহাজের ছাদ থেকে ধারণ করা। আশপাশের উত্তাল সমুদ্রের দৃশ্য দেখিয়ে তিনি বলেন, “গাজার খুব কাছাকাছি চলে এসেছি।”
ভিডিওতে তাকে সহযাত্রীদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতে দেখা গেছে।
এর আগে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে দেওয়া প্রথম ভিডিওতে তিনি জানান, সমুদ্রের ঢেউয়ের কারণে কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং বমি করে পড়ে গিয়েছিলেন। তবে আশ্বস্ত করেন, গুরুতর কিছু হয়নি। জাহাজে থাকা প্রায় ২০ জন ডাক্তার ও নার্সের কারণে চিকিৎসাসেবা ঠিকভাবেই পাচ্ছেন তিনি।
এক ভিডিওর ক্যাপশনে শহিদুল লেখেন, “আজ বমি করে পড়ে গিয়েছিলাম, তবে গুরুতর কিছু হয়নি। যে মনোযোগ পেয়েছি, তা আমাকে ভীষণ ভালো লেগেছে। আমার ভাগ্নী মাওলি বলত, আমি একজন ‘ডাম্রা কুইন’। আমি গাজার কাছাকাছি চলে এসেছি।”
নিজের অসুস্থতা নিয়ে যারা খোঁজখবর নিচ্ছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সবাইকে আলাদা করে উত্তর দিতে না পারায় তিনি দুঃখিত।
এদিকে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা ফ্লোটিলায় অংশ নেওয়া বেশিরভাগ জাহাজ আটকে দিয়েছে। তবে এই দাবির সঠিকতা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা, কারণ এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ একটি আন্তর্জাতিক মানবিক উদ্যোগ। গাজার অবরুদ্ধ জনগণের জন্য খাদ্য, ওষুধসহ জরুরি ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে এই বহর পৌঁছাতে চায় গাজার উপকূলে।
এই অভিযানে ৪৪টি দেশের প্রায় ৫০০ জন অধিকারকর্মী, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও সংসদ সদস্য অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে শহিদুল আলমই একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিচ্ছেন এই মিশনে।