জাতীয়

নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যাত্রা শুরু হবে: প্রধান উপদেষ্টা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৪৮ পিএম

নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যাত্রা শুরু হবে: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস–২০২৫’ উপলক্ষে সেনাকুঞ্জে আয়োজন করা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে দেশের জন্য ‘নতুন যাত্রার সূচনা’ বলে উল্লেখ করেছেন।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমরা শিগগিরই একটি নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই নতুন বাংলাদেশের পথে যাত্রা শুরু হবে- এটাই আমাদের স্বপ্ন। নির্বাচনকে আনন্দমুখর ও উৎসবমুখর করতে আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নির্বাচনকে নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করবেন।

মুহাম্মদ ইউনূস স্মরণ করিয়ে দেন- দেশের স্বাধীনতা, ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্ব রক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও জনকল্যাণমূলক কাজে সশস্ত্র বাহিনী সবসময় জনগণের পাশে থেকেছে। তিনি বলেন, “২০২৪ সালের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থান এবং চলমান পুনর্গঠন–সংস্কারে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী মানুষের আস্থার প্রতিদান দিচ্ছে।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে বাহিনীগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত প্রশিক্ষণ ও কাঠামোগত উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, “ফ্যাসিস্ট আমলে সশস্ত্র বাহিনীর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন উপেক্ষিত ছিল।”

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাহিনীগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তরুণ ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে বিএনসির কার্যক্রম বিস্তারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সম্মিলিত অভিযানের স্মরণীয় তারিখ হওয়ায় ২১ নভেম্বর দিনটি গৌরবের সঙ্গে পালন করা হয়।

তিনি বলেন, “জল, স্থল ও আকাশপথে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলে মুক্তিযোদ্ধারা দেশকে পরাধীনতা থেকে মুক্ত করেছেন- এই অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয়।”

প্রধান উপদেষ্টা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের দীর্ঘ সাফল্যের কথাও উল্লেখ করেন। বিগত ৩৭ বছরে ৪৩টি দেশে ৬৩টি মিশনে অংশগ্রহণ করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আজ বিশ্ব শান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে তিনি জানান। নারী শান্তিরক্ষী প্রেরণে বাংলাদেশ এখন অন্যতম শীর্ষ দেশ—এ অর্জনে তিনি সশস্ত্র বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান।

সশস্ত্র বাহিনীর সকল সদস্য ও তাদের পরিবারের সুখ–শান্তি কামনা করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা যেন দেশের অগ্রযাত্রায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি এই কামনা করি।”