জাতীয়

খালেদা জিয়াকে গার্ড অফ অনার, তিন বাহিনীর প্রধানের সশস্ত্র সালাম


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:৫৫ পিএম

খালেদা জিয়াকে গার্ড অফ অনার, তিন বাহিনীর প্রধানের সশস্ত্র সালাম
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন ও গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দাফন শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সশস্ত্র বাহিনীর গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে তার স্বামী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে মরহুমার প্রতি গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানরা সশস্ত্র সালাম জানান।

এর আগে বুধবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের মাঠ ও সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং লাখো মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে বিশেষ বাহনে করে মরদেহ জিয়া উদ্যানে নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের টানা প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলে বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় কারাবন্দি ছিলেন এবং বিভিন্ন ধরনের নিপীড়নের শিকার হন। ওই সময়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় তিনি ধীরে ধীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনিসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হন। করোনাকালে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলেও তাকে গুলশানের ভাড়া বাসভবন ‘ফিরোজা’য় অবস্থান করতে হয়।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু হয়, যা পরবর্তীতে সরকার পতনের রূপ নেয়। টানা ৩৫ দিনের আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। পরদিন ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন।

উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি তিনি লন্ডনে যান এবং সেখানে ১১৭ দিন চিকিৎসা গ্রহণ করেন। ৬ মে দেশে ফেরার পর তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও বয়সজনিত দুর্বলতা ও নানা রোগের জটিলতায় তিনি বারবার অসুস্থ হয়ে পড়েন।

সবশেষ গত ২৩ নভেম্বর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে এক মাসেরও বেশি সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় তিনি ইন্তেকাল করেন।