জাতীয়
স্বাধীনতার পথে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করেন
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ, রাত ২টা ১৫ মিনিটে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। বন্দরনগরী চট্টগ্রামে তার অধীনে থাকা বাঙালি সেনাদের সংগঠিত করে তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র ধাপ শুরু করেন।
জিয়াউর রহমান ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেই রাতে ব্যাটালিয়ন থেকে পাকিস্তানি সেনাদের বিদ্রোহ ঘোষণা করে বাঙালি সৈন্যদের স্বাধীনতার লড়াইয়ে অংশ নিতে নির্দেশ দেন। সৈন্যরা তাঁর আদেশ স্বতঃস্ফূর্তভাবে মেনে নেন।
বন্দরনগরের উপকণ্ঠে অবস্থিত কালুরঘাট এলাকায় স্থাপিত অস্থায়ী ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’ থেকে তিনি দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। স্মৃতিচারণে তিনি উল্লেখ করেছেন, পাকিস্তানি শাসনামলে বাঙালিদের সাংস্কৃতিক দমন, রাজনৈতিক কোণঠাসা এবং দীর্ঘ সামরিক শাসনই মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি তৈরি করেছিল।
জিয়া তার লেখায় বাঙালি জাতির জাতীয়তাবাদী ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো তুলে ধরেন—১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচন, আইয়ুব খানের সামরিক শাসন, ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ, ষাটের দশকের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফলাফল। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানি শাসকদের অব্যাহত বাধা, অবমাননাকর মনোভাব এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে দমন করার প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত বাঙালিদের সশস্ত্র প্রতিরোধের দিকে ধাবিত করেছিল।
২৫ ও ২৬ মার্চের কালরাতে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে পাকিস্তানি সেনাদের গণহত্যার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। জিয়া বন্দরের পথে যাওয়ার সময় বাঙালি মেজর খালেকুজ্জামান চৌধুরী তাঁকে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলার খবর দেন। দ্রুত তিনি নিজ ব্যাটালিয়নে ফিরে গিয়ে বাঙালি সৈন্যদের সঙ্গে বিদ্রোহ শুরু করেন এবং বেসামরিক কর্মকর্তাদের সহযোগিতা প্রার্থনা করেন।
জিয়ার স্মৃতিচারণে দেখা যায়, তিনি সৈনিক জীবনের অভিজ্ঞতা এবং ঐতিহাসিক মুহূর্তের আবেগকে কলমে ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। স্বাধীনতার প্রথম বার্ষিকীর আগে একটি সাংবাদিকের উৎসাহে তিনি এই দীর্ঘ নিবন্ধ রচনা করেন, যা পরে ‘বার্থ অব অ্যা নেশন’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়।
এই স্মৃতিচারণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক ধাপ, বাঙালি সেনাদের সংগঠন এবং শহীদ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস তুলে ধরে, যা স্বাধীনতার প্রতি তাদের অঙ্গীকার এবং ত্যাগের গল্পকে আজও স্মরণ করায়।