জাতীয়

পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ, ফানুস-আতশবাজি-ভুভুজেলা নিষিদ্ধ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ, ফানুস-আতশবাজি-ভুভুজেলা নিষিদ্ধ
ছবি: সংগৃহীত

বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাখার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের সব বড় অনুষ্ঠানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। দেশের সব আয়োজন সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এর সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরসহ দেশের সব অনুষ্ঠানে বিকাল ৬টার পর কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। বিকাল ৫টার পর এসব এলাকায় নতুন করে কোনো জনসাধারণ প্রবেশ করতে পারবে না।

অংশগ্রহণকারীরা মুখোশ ব্যবহার করতে পারবে না, তবে হাতে মুখোশ বহন করা যাবে, প্রদর্শনীর জন্য তৈরি মুখোশ এমনভাবে প্রদর্শন করা যাবে না যাতে মুখ ঢেকে থাকে। মিছিল শুরু হলে মাঝপথে প্রবেশ করা যাবে না।

ফানুস উড়ানো, আতশবাজি, গ্যাস বেলুন ও ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ৩০০ ফিট এলাকায় মোটরসাইকেল বা কার রেসিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রমনা বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরা এবং পর্যাপ্ত আর্চওয়ে থাকবে। ইভটিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার রোধে দেশব্যাপী সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।

সব বড় অনুষ্ঠানস্থলে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স এবং মেডিকেল টিম মোতায়েন থাকবে। রমনা লেকে যেকোনো দুর্ঘটনা রোধে ডুবুরি দল নিয়োজিত থাকবে।

পহেলা বৈশাখের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (টিএসসি) মেট্রোরেল স্টেশন নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্টিকারবিহীন কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না।

এছাড়া সাধারণ মানুষকে ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, দিয়াশলাই বা লাইটার বহন না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। শিশুদের সঙ্গে তাদের পরিচয় সম্বলিত নোট রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, “বাঙালির কৃষ্টি ও সংস্কৃতির এ উৎসবকে নিরাপদ রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব ধরনের কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।”

সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।