জাতীয়

অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে বাজেট বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, প্রশ্ন রুমিন ফারহানার


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম

অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে বাজেট বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, প্রশ্ন রুমিন ফারহানার
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট নিয়ে আলোচনায় অর্থনৈতিক বিভিন্ন সূচক তুলে ধরে বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি চাপে রয়েছে। এমন অবস্থায় সরকার কীভাবে বাজেট বাস্তবায়ন করবে, তা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে সম্পূরক মঞ্জুরি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ।

রুমিন ফারহানা বলেন, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের আকার ৬৮ লাখ কোটি টাকা হলেও প্রবৃদ্ধির হার নেমে এসেছে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি রয়েছে ৯ দশমিক ৫ শতাংশে। তার দাবি, খেলাপি ঋণের পরিমাণ মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ, যা টাকার অঙ্কে ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এছাড়া ব্যাংক খাতে মূলধনের পর্যাপ্ততাও ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রপ্তানি হ্রাস ও আমদানি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বিদেশে চলে যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ব্যাংক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রকৃত ব্যবসায়িক সক্ষমতা না থাকা ব্যক্তিদেরও ঋণ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সুদের হার ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার দীর্ঘদিন রাজনৈতিক বিবেচনায় নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে অর্থনীতিতে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। শেয়ারবাজার ও কর ব্যবস্থার উন্নয়ন না হলে ব্যাংক খাতের ওপর চাপ আরও বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রুমিন ফারহানা বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ঘাটতি বাজেট প্রণয়নের ধারা রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নিতে হয়। তবে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের উচ্চ হার বিনিয়োগ সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ঋণ প্রাপ্তি জটিল হয়ে উঠলে বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকতে হতে পারে। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে সুদের হার তুলনামূলক বেশি এবং দ্রুত ঋণ পরিশোধের চাপও থাকে। তাই বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সরকার কীভাবে বাজেট বাস্তবায়ন করবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।