জাতীয়

ফুটপাতে খাবার বিক্রি করলেও নিতে হবে নিবন্ধন, কঠোর বিধিমালা জারি


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম

ফুটপাতে খাবার বিক্রি করলেও নিতে হবে নিবন্ধন, কঠোর বিধিমালা জারি
ছবি: সংগৃহীত

দেশে খাদ্য নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা জোরদার করতে নতুন বিধান চালু করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। ‘নিরাপদ খাদ্য প্রবিধানমালা, ২০২৬’-এর আওতায় এখন ফুটপাতের ক্ষুদ্র বিক্রেতা থেকে শুরু করে বড় সুপারশপ সব ধরনের খাদ্য ব্যবসার জন্য নিবন্ধন বা লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নতুন এই বিধিমালায় খাদ্য ব্যবসাকে মূলত দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। সাধারণ রেস্তোরাঁ, বেকারি, জুস বার, ক্যাটারিং, মিষ্টির দোকান এবং ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের জন্য নিবন্ধন নেওয়া বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে শিশুখাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য, জৈবপণ্য, কোল্ড স্টোরেজ এবং ভোজ্যতেলের পাইকারি ও আমদানির ক্ষেত্রে কঠোর শর্তসাপেক্ষ লাইসেন্স নিতে হবে।

প্রবিধান অনুযায়ী, নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন বছর। নিবন্ধন ফি ১ হাজার টাকা হলেও লাইসেন্স ফি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আকার অনুযায়ী ১ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। পাশাপাশি প্রতিটি খাদ্যপণ্যের প্যাকেট, বিল বা প্যাডে লাইসেন্স নম্বর কিংবা কিউআর কোড প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নিয়ম ভঙ্গ করে ব্যবসা পরিচালনা করলে কারাদণ্ড এবং বড় অঙ্কের অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে, যা বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তবে নতুন এই নিয়মকে ঘিরে ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ-এর বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল একে ‘১৮ নম্বর লাইসেন্সের বোঝা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে খাদ্য ব্যবসা পরিচালনায় ১৭টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুমতি নিতে হয়। নতুন বিধান যুক্ত হলে ব্যবসার খরচ ও প্রশাসনিক জটিলতা বাড়বে, কিন্তু পণ্যের মান উন্নত হবে না।

এছাড়া মাঠপর্যায়ে এই নিয়ম বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামানের মতে, এত বড় খাত তদারকি করার মতো পর্যাপ্ত জনবল বর্তমানে কর্তৃপক্ষের নেই। এতে ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি ব্যয় চাপলে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর পড়বে, যা বিদ্যমান মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়াতে পারে।

অন্যদিকে, সমালোচনার জবাবে খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, শুরুতেই ছোট বা ফুটপাতের বিক্রেতাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হবে না। প্রাথমিকভাবে বড় শিল্পভিত্তিক খাদ্য উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজর দেওয়া হবে।

এদিকে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলো তাৎক্ষণিক কোনো সমস্যায় পড়বে না বলে জানানো হলেও খাদ্যের মান নিশ্চিত করতে তাদের ওপর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।