জাতীয়

ধর্মের নামে বিভাজন নয়, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মির্জা ফখরুল


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম

ধর্মের নামে বিভাজন নয়, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মির্জা ফখরুল
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বিভাজনের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এ দেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদার রাষ্ট্র। ধর্মকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন-এ সম্মিলিত সনাতন পরিষদের আয়োজনে ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, হাজার বছরের ঐতিহ্যে এই ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছে। তাই ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে বিভক্ত করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, “আমি কখনোই আপনাদের সংখ্যালঘু মনে করি না, আপনারা এ দেশের নাগরিক এবং এ দেশেরই সন্তান।”

তিনি উল্লেখ করেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল সব মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম। সেই চেতনায় একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে নাগরিক পরিচয়ই হবে মুখ্য।

মন্ত্রী অভিযোগ করেন, একটি মহল ধর্মকে ব্যবহার করে বিভেদ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে উগ্রবাদ ও মৌলবাদের কোনো স্থান নেই। একটি উদার ও সম্প্রীতির সমাজ গড়াই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি আরও জানান, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সব ধর্মাবলম্বীর জানমাল ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুর্গাপূজা, রথযাত্রাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

সনাতন সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেদের দাবি ও সমস্যাগুলো সংগঠিতভাবে সরকারের কাছে তুলে ধরতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক দাবির সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিজন কান্তি সরকার ও লুৎফুল্লাহেল মাজেদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা।