জাতীয়

বিমানবন্দরে ভিআইপি-সিআইপিসহ সবার জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা তল্লাশি


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম

বিমানবন্দরে ভিআইপি-সিআইপিসহ সবার জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা তল্লাশি
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের সব বিমানবন্দরে ভিআইপি (VIP) ও সিআইপি (CIP) ব্যক্তিসহ সকল যাত্রীর জন্য সমানভাবে নিরাপত্তা তল্লাশি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেছেন, বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিধির ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণির জন্য বিশেষ ছাড় থাকবে না। নিরাপত্তা তল্লাশি থেকে কাউকে অব্যাহতি দেওয়া যাবে না।

আজ বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (ক্যাব) সদর দপ্তরে পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএসসি) প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের আসন্ন আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) নিরাপত্তা নিরীক্ষা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই যেসব বিষয়ে পর্যবেক্ষণ আসতে পারে, সেসব ক্ষেত্রে আইসিএওর নির্ধারিত নিরাপত্তা মানদণ্ড শতভাগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও জানান, যাত্রীদের নিরাপদ ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন ঠেকাতে সরকার অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত স্ক্যানার ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংরক্ষণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

সভায় দেশের বিমান চলাচল নিরাপত্তা আরও জোরদারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধি, জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ।

এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথে নিরাপত্তা জোরদার, আন্ডার ভেহিকল স্ক্যানিং সিস্টেম (UVSS)-এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং দেশের সব বেসামরিক বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU) সইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় যানজট, অননুমোদিত জনসমাগম, ভিক্ষাবৃত্তি ও অবৈধ লাগেজ মোড়ানোর কার্যক্রম বন্ধে ক্যাব, এপিবিএন, বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার ও বিমানবন্দর ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও সুপারিশ করেছে কমিটি।