জাতীয়

আজ বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, গণতন্ত্র ও সুশাসন জোরদারের অঙ্গীকার


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২১ এএম

আজ বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, গণতন্ত্র ও সুশাসন জোরদারের অঙ্গীকার
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে দলটি। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক রহমান।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির নেতারা জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও সুশাসনের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামনে দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের আস্থা ধরে রাখা।

১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে ক্ষমতার কেন্দ্রে আসেন জিয়াউর রহমান। একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে যাত্রায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার পর ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন মত, পথ ও আদর্শের মানুষ এবং তরুণদের নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। দলটির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

জিয়াউর রহমান দেশের অখণ্ডতা রক্ষার পাশাপাশি বহুদলীয় গণতন্ত্র, অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াক্ষেত্রে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। একই সঙ্গে ধর্মীয় ও জাতিগত বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা সামনে আনেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে অনেক রাজনৈতিক দল গঠিত হলেও সময়ের সঙ্গে সেগুলোর অনেকগুলো টিকে থাকতে পারেনি। বিএনপি রাজনৈতিক আদর্শের কারণেই দীর্ঘদিন ধরে টিকে আছে বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, জিয়াউর রহমানের দেওয়া ১৯ দফা কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানের পথনির্দেশ ছিল। এ কারণে মানুষ বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবং দলটির রাজনীতি মানুষের মধ্যে আশা ও বিশ্বাস তৈরি করেছে।

জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি দলটিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান। তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় বিএনপিকে নানা প্রতিকূলতা, মামলা ও গ্রেপ্তারের মতো পরিস্থিতিরও মুখোমুখি হতে হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচি সম্প্রসারিত হয়ে ৩১ দফায় রূপ নেয়। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার পর দলের নেতৃত্ব এখন তারেক রহমানের হাতে। জুলাই-পরবর্তী নির্বাচনে তার নেতৃত্বে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরেছে বিএনপি।

ফলে পুরোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের এই সময়ে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন কতটা কার্যকরভাবে অনুসরণ করা হবে, সেটিও আলোচনায় এসেছে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি কখনো মূল রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি। দলটি গণতন্ত্রের জন্য কাজ করেছে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো আপস করেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীনতার পর গড়ে ওঠা দলগুলোর মধ্যে বিএনপি দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাপক জনভিত্তি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তবে রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে দলটির সামনে এখন জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, সর্বশেষ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়েছে। তবে এই সাফল্য কতটা টেকসই হবে, তা নির্ভর করবে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো দলটি কতটা বাস্তবায়ন করতে পারে তার ওপর।

বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক চাপের মধ্যে থাকা বিএনপি এখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে। কিছু ক্ষেত্রে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা থাকলেও গণতন্ত্র হরণ কিংবা আইনের শাসন বিনষ্টের অভিযোগ দলটির বিরুদ্ধে ওঠেনি। ফলে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই সময়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই দলটির সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।