জাতীয়

রূপপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অপেক্ষা, নভেম্বরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম

রূপপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অপেক্ষা, নভেম্বরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে শুরু হয়েছে পারমাণবিক বিক্রিয়া। পরবর্তী ধাপগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হলে নভেম্বরেই পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিপুল বিনিয়োগে নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন শুরু করতে সরকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে গত মে মাসে ইউরেনিয়াম জ্বালানি প্রবেশ করানো হয়। পরিকল্পনা ছিল সেপ্টেম্বরের মধ্যে পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করার। তবে নিরাপত্তা ভাল্বের ত্রুটির কারণে প্রকল্পটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে দুই দফায় উচ্চচাপে ভাল্বের পরীক্ষা চালিয়ে সফল হন রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে ১১ অক্টোবর চুল্লিতে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়। চলতি বছরই পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যেতে পারে।

প্রথম ধাপে চুল্লিতে ইউরেনিয়াম পরমাণু ভেঙে শক্তি ও তাপ উৎপন্ন হবে। প্রায় এক মাস ধরে এই প্রক্রিয়ায় উচ্চ তাপমাত্রা তৈরির বিভিন্ন সূচক এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

এরপরের ধাপে উচ্চচাপের পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হবে। পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রবাহিত উচ্চচাপের বাষ্প টারবাইন ঘোরাবে। সেই টারবাইনের সঙ্গে যুক্ত জেনারেটরের মাধ্যমে উৎপাদিত হবে বিদ্যুৎ।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৬৫ কোটি মার্কিন ডলার। এর ৯০ শতাংশ অর্থ এসেছে রাশিয়ার ঋণ থেকে।

দুটি ইউনিটে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রটি পুরোপুরি চালু হলে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ শতাংশ পূরণ করতে পারবে। এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব জ্বালানির মাধ্যমে টানা ৬০ বছর বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে প্রকল্পটির।