জাতীয়

কাতারে গ্রেপ্তার বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম

কাতারে গ্রেপ্তার বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার হয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত ১৫ অক্টোবর কাতার পুলিশ শেখ আব্দুল হান্নানকে গ্রেপ্তার করে। এ বিষয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে পাঠানো ই-মেইলে দুদককে নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

শেখ আব্দুল হান্নান ও তার স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করে দুদক। মামলাগুলোতে তাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন এবং বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের করা মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, শেখ আব্দুল হান্নান জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৫০৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। এ ছাড়া তার নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাবে মোট ২৭ কোটি ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭০০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

দুদকের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে তিনি এসব সম্পদ অর্জন করেছেন। পাশাপাশি সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে অর্থের প্রকৃত উৎস গোপন করার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়।

অন্যদিকে, শেখ আব্দুল হান্নানের স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধেও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেনের অভিযোগে পৃথক মামলা করেছে দুদক। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, তাহমিদা বেগম ১ কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৩০৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।

এ ছাড়া তার নামে থাকা ৩২টি ব্যাংক হিসাবে মোট ১ কোটি ১৮ লাখ ১৯ হাজার ৯২৩ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুদক। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, স্বামীর সহযোগিতায় তাহমিদা এসব সম্পদ অর্জন করেছেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাহমিদা বেগমের পাশাপাশি শেখ আব্দুল হান্নানকেও আসামি করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগগুলো এখনো বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হওয়ার বিষয়। কাতারে গ্রেপ্তারের পর শেখ আব্দুল হান্নানের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া, তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে তা জানা যাবে।