জাতীয়
বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিশ্বের অন্য কোথাও আছে বলে জানা নেই: রাষ্ট্রপতি
বাংলাদেশে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে প্রায়ই অপব্যাখ্যা ও অপপ্রচার চালানো হয়। এ সম্প্রীতি রক্ষা ও সুদৃঢ় করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে রাজধানীর রমনা কালী মন্দির পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান এবং দেশের সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহাবস্থান ও সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমরা খুব দৃঢ় কণ্ঠে, জোর গলায় বলতে পারি-বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক যে সম্প্রীতি রয়েছে, তা বিশ্বের আর কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই।” তিনি বলেন, বাংলাদেশের এই সম্প্রীতির বাস্তবতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অপব্যাখ্যা ও অপপ্রচার করা হয়। তাই দেশের ঐতিহ্যবাহী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
দুর্গাপূজার তাৎপর্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, শুধু বাংলাদেশে নয়, সমগ্র পৃথিবীতে যখন অন্যায়, অত্যাচার, নিপীড়ন ও নির্যাতন নেমে এসেছিল, তখনই দেবী দুর্গার আবির্ভাব হয়েছিল। অন্যায়, অসততা, অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং সেগুলোকে পরাজিত করাই দুর্গাপূজার মূল দর্শন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে অসুরের আবির্ভাব ঘটেছে এবং এ দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের পরাজিত করেছে। অন্যায় ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে মানুষের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের বিষয়টিও দুর্গাপূজার শিক্ষা থেকে উপলব্ধি করা যায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী রমনা কালী মন্দিরের ইতিহাস তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মন্দিরটি ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং পরে ১৯৭৩ সালে এটি পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়। যারা ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলেন, তাদের হাতেই এই অপকর্ম হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি আরও উল্লেখ করেন, পরবর্তী সময়ে ২০০১ সালে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় রমনা কালী মন্দির পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর থেকে মন্দিরটিকে তার পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আশ্বাস দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাদের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে দুর্গাপূজার সার্বিক সফলতা কামনা করেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনকারী শিল্পী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, রমনা মন্দিরের সভাপতি অপর্ণা রায় দাস এবং সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য। অনুষ্ঠানে রমনা মন্দিরের সদস্য সুভাষ চন্দ্র দাস রাষ্ট্রপতিকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন।