জাতীয়
চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষায় সড়কমন্ত্রীর উদ্যোগ, বিনামূল্যে মিলবে চশমা
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও বিনামূল্যে চশমা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যা থেকে সৃষ্ট দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের মিনি কনফারেন্স কক্ষে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। এ সময় ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিশা মাহজাবিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচির আওতায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ ৩৯টি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রায় ৩০০ জন চালকের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় যেসব চালকের দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা শনাক্ত হবে, তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে চশমা দেওয়া হবে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ দিনব্যাপী এ কর্মসূচি ১৮ ও ১৯ অক্টোবর এবং ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কার্যালয়ের চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় চশমা সরবরাহ করা হবে। কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের সুস্থতা ও শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দৃষ্টিশক্তির সমস্যা থাকলে গাড়ি চালানোর সময় সড়কের সংকেত, পথচারী, অন্যান্য যানবাহন ও সম্ভাব্য বিপদ যথাসময়ে শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। এ কারণে নিয়মিত দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা চালকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে চালকদের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যার কারণে সৃষ্ট সম্ভাব্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে চশমা সরবরাহের ফলে চালকেরা আরও নিরাপদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। একই সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা জোরদার এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাও আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।